
সজীব মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার:-
ফরিদপুরের মধুখালীতে অপরিকল্পিত খাল খনন করায় ঘরবাড়ী রাস্তা খালে গণদুভোর্গে পাড়ের মানুষ।
সরেজমিনে পরিদর্শনে খাল খননের মাটি ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ স্থানীয়দের। ঘরবাড়ী হারানোর শঙ্কা খাল পাড়ের বসতীদের। খালের অতিরিক্ত মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে ইট ভাটায়। এতে কয়েকটি ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ২০/২৫টি পরিবার। প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন তারা। রেব হতে পারছেন না বাড়ী থেকে। এছাড়া ধসে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে পাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। উপজেলার আড়পাড়া টোলঘর থেকে জামারপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২কিলোমিটার সড়ক। সবে কার্পিটিং এর কাজ শেষ হয়েছে সড়কের বিভিন্ন স্থানে এরই মধ্যে ফাটল ধরে দেবে গেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন উপজেলার পশ্চিম আড়পাড়া গ্রামের খালের পাড়ের বাসিন্দারা।
অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে,পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মধুখালী উপজেলার আড়পাড়ার ইউনিয়নের গড়িয়াদহ খালের প্রায় সোয়া ৩ কিলোমিটার (৩ দশমিক ২৫ কিলোমিটার) অংশ পুনঃখননের কাজ করা হয়েছে। সিমানা জটিতায় গড়াই নদীর সংযোগ স্থলে প্রায় ১শ মিটার খনন করা সম্ভব হয় নাই। পাড়ে উত্তোলন করা মাটি নিলামে দরপত্র দেওয়া হয়। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,পানি উন্নয়ন বিভাগের খাল পুনঃখননের মাটি অপসারণের জন্য উন্মুক্ত নিলাম দরপত্র ক্রয় করেন এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোক। সেই অতিরিক্ত মাটি কেটে বিভিন্ন ভাটায় বিক্রি করছেন তারা। এতে করে রাস্তাসহ বাড়িঘর ধসে পড়েছে।
খাল খননের মাটি ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ,বসতভিটা হারানোর শঙ্কা ক্ষতিগ্রস্তদের। সুরুজ মোল্যা বলেন, এলাকার প্রভাবশালী লোকজন অতিরিক্ত মাটি কেটে আমাদের ক্ষতি করছেন। আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি মাটি যাতে না কাটা হয়। কিন্তু তারা আমাদের বলেছেন আমরা উপজেলা থেকে মাটির টেন্ডার এনেছি।
ভুলু বেগম ও রানু বেগম বলেন আমাদের বাড়ির সাথে খাল আমার রান্না ঘর টয়লেট খালে, থাকার ঘর যায়। নিয়ম মেনে মাটি কাটলে আমাদের এই ক্ষতি হতো না। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা মো. সাহেব আলী শেখ ও বাবু শেখ বলেন, প্রয়োজনের চেয়েও বেশি গভীর করে কাটা হয়েছে খাল। খালের মাটি বেকু দিয়ে গভীর করে কেটে পাড়ে স্তুপ করে রাখা হয়। সালাম শেখের ঘর খালে সে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র ভারা বাড়ীতে বসবাস করছেন।
খাল খননের মাটি ইটভাটা ও স্থানীয় ভাবে বিক্রির অভিযোগ,রাস্তা ও বসতভিটা হারানোর শঙ্কা এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আবু রাসেল বলেন, রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী খালের অতিরিক্ত মাটি সাইড থেকে অপসারণের জন্য আমাকে চিঠির মাধ্যমে জানান। আমি উন্মুক্ত নিলাম দরপত্র করে অতিরিক্ত মাটি অপসারণের দরপত্র দেই। এরপর রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল খননের যে ডিজাইন সেভাবে কাটা হয়েছে। তিনি আরো বলেন বাড়িঘর ও রাস্তা ক্ষতির বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাদের আপদকালীন সহায়তার জন্য ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। খালপাড়ের মানুষের বাড়িঘর রক্ষার্থে উপজেলা পরিষদ থেকে কিছু অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তিনি সহযোগিতার আশ্বস্ত করেছেন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজবাড়ী উপবিভাগীয় প্রকৌশলী উত্তম কুমার পোদ্দারের মোবাইলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান নিয়ম মেনেই খাল খনন করা হয়েছে। কোন অনিয়ম করা হয় নাই । খননে খালে স্লোপ থাকার কথা কিন্ত স্লোপ না থাকায় খাড়া হয়ে যায়, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে পাড় ভেঙ্গে ধ্বসে যায়। সে কারনে কিছু বাড়ী ধ্বসের কবলে পরেছে। উপর মহলে ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বরাদ্ধ পেলে মেরামত করে দেওয়া হবে। খাল পাড়ের মানুষের দুঃখ লাগভে আমরা চেষ্টায় আছি। মামলা ও আইনী জটিলতার কারনে গড়াই নদীর সংযোগ স্থলে প্রায় ১শ মিটার খাল খনন করা হয় নাই। রাস্তা ধ্বসের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সোহেল রানা তার মোবাইলে জানান ১২ কিলোমিটার সড়ক প্রায় ২০ কোটি টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে। খাল খনন ও অতিবৃষ্টির কারনে খাল এলাকায় বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধ্বসে খালের গর্ভে যায়। বর্তমানে ভাঙ্গা সড়ক এলাকা মেরামতের কাজ চলছে। এলজিডিই এর একটি গুরুত্বপূর্ন দল খাল এলাকায় সড়ক ভাঙ্গন স্থান পরিদর্শন করেছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক : কামাল মাহমুদ লেলিন
অফিস ঠিকানাঃ ক-১৮/৫/এ/৫ (৩তলা) কুড়িল বড়বাড়ী,ভাটারা,ঢাকা-১২২৯