
ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তাদের শ্রেণিকক্ষ এবং ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে আমাদের শিক্ষিত এবং দক্ষ প্রজন্মের প্রয়োজন।
ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণ-ঐক্যের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের এক মাস পূর্তিতে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা এই আহ্বান জানান।
“এখন পড়ালেখায় ফিরে যাওয়ার সময়। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে। আমি তোমাদের সবাইকে শ্রেণিকক্ষ এবং ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ, বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে আমাদের শিক্ষিত এবং দক্ষ প্রজন্মের প্রয়োজন,” তিনি বলেন।
“আজ (বৃহস্পতিবার) আমরা বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার এক মাস উদযাপন করছি। ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় বিপ্লবের জন্য শত শত ছাত্র এবং সর্বস্তরের মানুষ সর্বাচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে,” তিনি বলেন।
ছাত্রদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বিপ্লবের সময়, তাদের পড়াশোনা ছেড়ে বন্ধুদের চিন্তায় রাত জাগাতে হয়েছে এবং নিষ্ঠুর শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দিনের বেলায় রাস্তায় নামতে হয়েছে, একে অপরকে চিরকালের জন্য বিদায় জানাতে হয়েছে।”
ড. ইউনূস বলেন, “বিপ্লবের পর ছাত্ররা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তাদের উপাসনালয়গুলো পাহারা দেয় এবং সারাদেশে যানবাহন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয়। আমি জানি তোমাদের পড়াশোনায় বিরাট ব্যাঘাত ঘটেছে।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র এক মাস অতিবাহিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপ্লবের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনে সরকার গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।
“আমাদের প্রথম কাজ হলো জুলাই এবং আগস্ট মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা,” তিনি বলেন।
তিনি আরও বলেন, “গণহত্যার ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ও বাংলাদেশে তাদের টিম পাঠিয়েছে এবং এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।”
এছাড়াও, জুলাই ও আগস্ট মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে শীর্ষ আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান ড. ইউনূস।