
আমিনুর রহমান-নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা ও হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরে নবাবগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর আয়োজন করেন। সরকারি দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ থেকে একটি মিছিল বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাগমারা কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
এসময়ে বক্তারা বলেন, ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উপর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আমরা রক্তের বিনিময়ে দেশে স্বাধীনতা এনেছি তাই আমাদেরই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। এখন দেশের কোথাও যেন দুর্নীতি না হয় সেজন্য সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে। যেখানেই দুর্নীতি দেখবেন সেখানেই প্রতিরোধ করবেন।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে তুলসিখালী ব্রিজ থেকে অবৈধভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আবেদন এ টোল আদায় বন্ধ করা হোক। টোল বন্ধ করতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর কাছে আমরা প্রস্তাব করেছি এবং গণস্বাক্ষর নিয়ে ইউএনও বরাবর আবেদন করবো। আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
হেফাজতে ইসলাম নবাবগঞ্জ শাখা আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। বুধবার বেলা ১০ টা ৩০ মিনিটে নবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের দ্রæত বিচারে দাবি জানিয়ে ভারতীয় আগ্রাসন নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানান।
স্বরণে সভায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির হযরত মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানসহ স্বৈরাচার হাসিনা সরকারে সকল সহযোগীদের দ্রæত বিচার করতে হবে। এছাড়া রাজধানী ঢাকার শাপলা চত্বরে নিহত হেফাজতে ইসলামের যে সকল নেতাকর্মীর শহীদ হয়েছে তাঁদের হত্যার বিচার করতে হবে। আমরা রাজনীতি করি না। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আইন মেনে চলি।
এসময় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বাংলাদেশ পীর, আলেম, অলি মাশায়েকদের দেশ। আমরা আপনাদেরকে বলতে চাই এই দেশের মুসলিম, হিন্দু, খৃষ্টান ধর্মের মানুষ সকলে মিলে মিশে বাস করে। তাঁরা আপনাদের তাঁবেদারি মানবে না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী, মাওলানা নুরহুসাইন কাসেমী, মুফতি ইব্রাহিম খলিল, মুফতি আল আমিন, মুফতি রইচ উদ্দিন, মুফতি মাহবুবুর রহমানসহ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।