আমিনুর রহমান, নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নুসরাত জাহান(২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার আলালপুর এলাকা থেকে পুলিশ ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা নুসরাত জাহানের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত নুসরাত জাহান নবাবগঞ্জ উপজেলার আলালপুর গ্রামের মো. চাঁন মিয়ার ছেলে দুবাই প্রবাসী মো. রাশেদের স্ত্রী এবং দোহার উপজেলার বাস্তা গ্রামের সামাদ লস্করের মেয়ে। নিহত নুসরাতের ৪ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
নুসরাতের মা হেলেনা বেগম বলেন, সোমবার বিকালে আমার মেয়ে নুসরাত আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তার শ্বশুর বাড়ি যায়। মেয়ের জামাই রাশেদ আমাকে ফোন করে নুসরাতকে ৫০ হাজার টাকা ধার দিতে বলে। রাশেদ পরবর্তীতে আমাদের টাকা ফেরত দিয়ে দিবে বলে। মেয়ে টাকা নিয়ে তার শাশুড়িকে দেয়।
হেলেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই নুসরাতকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করতো। মেয়ে হাসি-খুশি অবস্থায় আমার কাছে থেকে বিদায় নিয়ে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার পরে এ ঘটনা ঘটে। নুসরাতকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন হত্যা করেছে। এখন তারা বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।
নুসরাতের স্বজনরা বলেন, কিছু দিন যাবত স্বামী রাশেদের সাথে নুসরাতের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না। তার শাশুড়ি রাশেদা বেগম সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া করতো।
নুসরাতের শাশুড়ি রাশেদা বেগম বলেন, ছেলের বউ তার বাবা বাড়ি থেকে সন্ধ্যায় আমাদের বাড়িতে এসেছে। রাতে ছেলের বউ তার নিজ ঘরে শুয়ে ছিল। আমি আর কিছু জানি না।
বারুয়াখালী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই বোরহান উদ্দিন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় নুসরাত বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসে এবং রাতে স্বামীর সাথে তার মোবাইলে কথা হয়। এরপর রাতের যে কোনো সময়ে সে আত্মহত্যা করতে পারে। ঝুলন্ত অবস্থায়ও তাঁর কানে মোবাইল হেডফোন ছিল।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ জালাল গণমাধ্যমকে জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে
ঝুলে থাকা নুসরাতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। লাশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : কামাল মাহমুদ লেলিন
অফিস ঠিকানাঃ ক-১৮/৫/এ/৫ (৩তলা) কুড়িল বড়বাড়ী,ভাটারা,ঢাকা-১২২৯