1. admin@timesnews71.com : অ্যাডমিন :
পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনকে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার ৩ | টাইমস নিউজ ৭১
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনকে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার ৩

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:-

পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনকে শনাক্তের পর গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে দুজন আলোচিত এই কিলিং মিশনে শুটার (গুলিবর্ষণকারী) হিসেবে অংশ নেন। তারা হলেন ফারুক ওরফে কুত্তা ফারুক ও রবিন। গ্রেপ্তার অন্য তিনজনের মধ্যে একজন হলেন ঘটনাস্থলে তাদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে থাকা রুবেল। অন্য দুজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আটকদের মধ্যে কুত্তা ফারুক ও রবিন পেশাদার শুটার হিসেবে কাজ করেন। এই পাঁচজনকে আটকের তথ্য কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘তাদের (ফারুক, রবিন ও রুবেল) নরসিংদীর ইটাখোলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে তাদের সিলেটের মৌলভীবাজার থেকে অনুসরণ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায় ডিবির দল। এই অভিযানে ঢাকার রায়েরবাজার এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাদের গ্রেপ্তারে একযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিএমপির এক উপকমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামুনকে হত্যার আগে অন্তত একজন তাকে অনুসরণ করছিল। মামুনকে লক্ষ্য করে দুজন গুলি করলেও আরও অন্তত দুটি ব্যাকআপ টিম আশপাশে ছিল, তাদের শনাক্তেও পুলিশ কাজ করছে।

গত সোমবার সকালে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের ফটকের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় জামিনে থাকা মামুনকে। ২৮ বছর আগের একটি হত্যা মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় তাকে দুই ব্যক্তি ধাওয়া করে গুলি করে। একপর্যায়ে কয়েক গজ দূর থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর শুটাররা পালিয়ে যায়। দুই বছর আগেও রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় মামুনকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। তখন তিনি প্রাইভেটকার থেকে বের হয়ে দৌড়ে পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হন। তবে সেবার হামলাকারীদের গুলিতে মোটরসাইকেল আরোহী ভুবন চন্দ্র শীল নামে একজন নিহত হয়েছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত মামুন হত্যায় কোনো মামলা হয়নি। সূত্রাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাসান নাঈম বলেন, ‘নিহতের পরিবার এসে মামলা করবে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলমান আছে।’

নিহত মামুনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায়। বড় হয়েছেন ঢাকায়। পড়ালেখা করেছেন ঢাকা কলেজে। এক সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল। দুজন মিলে তখন রাজধানীর ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাদের গড়ে তোলা বাহিনীর নাম ছিল ‘ইমন-মামুন’ বাহিনী। মামুন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীসহ বেশ কয়েকটি হত্যা মামলার আসামি।

চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ২০ বছর সাজা খেটে ২০২৩ সালে কারামুক্ত হন। এর তিন মাসের মাথায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার বিজি প্রেসের সামনে তার ওপর হামলা হয়। ওই হামলায় গুলিতে নিহত হন মোটরসাইকেল আরোহী আইনজীবী। তখন পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইমনের সহযোগীরা মামুনকে হত্যার চেষ্টায় ওই হামলা চালায়।

মামুনের স্ত্রী বিলকিস আক্তার জানান, তার স্বামী মামলা শেষে সাধারণ জীবনযাপন করছিলেন। এর আগে যারা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, এবারও তারাই তাকে হত্যা করেছে বলে তিনি ধারণা করছেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ টাইমস নিউজ ৭১
Theme Customized By Times News 71