টাইমসনিউজ ডেস্ক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থন পেলে দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে চায় বিএনপি। সোমবার কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির আয়োজনে এক জনসভায় ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকারকে হটাতে আমাদের ১৭ বছরের সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এই দীর্ঘ সংগ্রামে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। এই আন্দোলনের অংশীদার সকল রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়েই আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।’
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা আপনাদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছেন। সেই সময় হাজারেরও বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন। স্বৈরশাসক আমাদের দাবি দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেয়নি। তারা এই জাতির ভবিষ্যতের জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। একটি অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তুলে আমরা তাদের প্রত্যাশাকে সমুন্নত রাখব।’
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার পতিত হতে পারে, কিন্তু তাদের অবশিষ্টাংশ এখনও আমাদের অনুসরণ করছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে গড়ে উঠা এই সরকার সেই ত্যাগ বৃথা যেতে দিতে পারে না। স্বৈরাচারের ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হবে না।’
জনগণের প্রতি যথার্থভাবে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাহলেই সরকার জনগণের প্রতি জবাবদিহি করবে। দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ যখন তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে, তখনই আমাদের সংগ্রাম পূর্ণতা পাবে।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত যাব। প্রতিটি পরিবারকে পরিবারের মা বা গৃহিণীর নামে নিবন্ধিত কার্ড প্রদান করব। বহু বছর ধরে এই কর্মসূচি চালিয়ে গেলে গ্রামাঞ্চলে ক্ষুধা নির্মূল সম্ভব হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান তারেকের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেন।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে। এখন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার সময়। বিএনপি, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের মাধ্যমেই এই দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে।’
গত ১৭ বছরে হাজার হাজার দলীয় নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দীর্ঘ আন্দোলনেরই পরিণতি জুলাই-আগস্টের বিপ্লব।
নজরুল আরও বলেন, ‘অনেক নেতা-কর্মী গুম হয়ে গেছেন। স্বৈরাচারী সরকারের হাতে নিহত সকলের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান এবং যুগ্ম মহাসচিব ইমরান সালেহ প্রিন্স।
প্রকাশক ও সম্পাদক : কামাল মাহমুদ লেলিন
অফিস ঠিকানাঃ ক-১৮/৫/এ/৫ (৩তলা) কুড়িল বড়বাড়ী,ভাটারা,ঢাকা-১২২৯