1. admin@timesnews71.com : অ্যাডমিন :
বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে না পারা আওয়ামী লীগের ‘বড় ব্যর্থতা’ | টাইমস নিউজ ৭১
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মধুখালীর ১১ বিদ্যালয়ের ‘সততা স্টোর’ পরিদর্শনে দুদক, সততা চর্চায় গুরুত্ব স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অংশ নিতে পারবেন না: ইসি সচিব শিক্ষকদের বদলির তদবিরের ভিড়ে অফিসে ঢুকতে পারি না : শিক্ষামন্ত্রী উন্নত চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী পুলিশে বড় রদবদল, ৪ ডিআইজিসহ ১৪ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আটক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌ-প্রধানের সাক্ষাৎ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান খানের পদত্যাগ মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সাথে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ এবার সেই মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে না পারা আওয়ামী লীগের ‘বড় ব্যর্থতা’

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৪

টাইমসনিউজ ডেস্ক

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের অন্যতম বড় ব্যর্থতা ছিল বিএনপিকে নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করতে না পারা। তিনি জানান, বিএনপি বারবার নির্বাচন বর্জনের চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগ তাদেরকে নির্বাচনে আনতে পারা একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেন।

গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাংলা স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘চ্যানেল এস’-এ বুলবুল হাসানের সঞ্চালনায় মতামতবিষয়ক সাক্ষাৎকারে ড. হাছান মাহমুদ গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর প্রথমবার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন।

গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ শাসিত সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল বা ব্যর্থতা কী ছিল—এমন এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, সরকারে থাকলে ভুল হবেই। পৃথিবীর কোনো সরকার শতভাগ নির্ভুল কাজ করতে পারবে না। আমাদেরও অনেক ভুল ছিল। শুধু একটি দুটি ভুল নয়, দায়িত্বে থাকলে ভুল হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি—এটি আমার দলের অভিমত নয়, ব্যক্তি ড. হাছান মাহমুদের অভিমত হচ্ছে…আমি মনে করি বিএনপি অবশ্যই সব সময় নির্বাচন বর্জন করেছে, নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু যেহেতু আমরা দায়িত্ব ছিলাম, বিএনপিকে নির্বাচনে অ্যাকোমোডেট করতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা ছিল। ২০১৪ সালে, ২০২৪ সালে নির্বাচনে আনতে না পারা আমাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ছিল। যদিও তারা আমাদেরকে ব্যর্থ করার চেষ্টাই করেছে, তবুও এটা আমাদের ব্যর্থতা।

অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার তীব্র প্রতিবাদ জানান এই আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আমি বিএনপির দায়িত্বশীলদের বক্তব্য দেখেছি। তারাও এটার বিরোধিতা করেছে। কোনো রাজনৈতিক দলকে কাগজে কলমে নিষিদ্ধ করলেও কিন্তু সেটি নিষিদ্ধ হয়ে যায় না। ছাত্রলীগের ক্ষেত্রেও সেটা প্রযোজ্য। বাংলাদেশে পঁচাত্তরের পর যখন প্রথম নির্বাচন হয়, সেভেন্টি নাইনে যখন পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়— আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা অনেকের মতে কমে গিয়েছিল তখন। সেই সময় আওয়ামী লীগ ৩৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল। এখন একেবারে কমপক্ষে বাংলাদেশের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। আওয়ামী লীগের মতো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধের কথা যারা ভাবেন সেটি অলীক একটি কল্পনা ছাড়া কিছু নয়।

তিনি আরও বলেন, যে রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সৃষ্টি এবং দেশের বহুবিধ অর্জন সম্ভব হয়েছে, সেই দলকে নিষিদ্ধ করার চিন্তাধারা কীভাবে এবং কেন আসে, তা বোধগম্য নয়।

হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে হাজার হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে। কারও কারও মতে এই সমস্ত মামলার আসামি ৬ মিলিয়ন। তৃণমূল পর্যায়ের ওয়ার্ড লেভেলের কর্মীর বাড়িতেও তল্লাশী চালানো হচ্ছে পুলিশ দিয়ে। তারা ঘর বাড়িতে থাকতে পারছে না। আমাদের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ড হত্যাকাণ্ড যে বলছে, হত্যাকাণ্ড তো এখনো চলছে। এগুলোকে হত্যাকাণ্ড মনে করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টে পুলিশকে যখন আক্রমণ করা হয়, পুলিশের কি আত্মরক্ষার অধিকার নেই? আত্মরক্ষার্থে পুলিশ তখন গুলি ছোঁড়েনি তা নয়, অবশ্যই ছুঁড়েছে। সেজন্য পুলিশের দায় আমরা কখনো অস্বীকার করিনি বা সরকার পক্ষের দায় আমরা কখনো অস্বীকার করিনি। এখনো অস্বীকার করছি না। অবশ্যই দায়িত্বে থাকলে দায় নিতে হবে। সেই দায় থেকেই শেখ হাসিনা সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। ৫ আগস্টের আগে আমাদের বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। সেটির ডাটা আমরা তৈরি করছি, প্রকাশ করা হবে।

সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, মৃত্যুর যে সংখ্যা-তথ্য দেওয়া হচ্ছে সেটি আসলে কত? সেটি নিয়ে বড় প্রশ্ন আছে। আসলে কতজন হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হয়েছে সেই নামটা প্রকাশ করুক। আমি মনে করি, প্রথম থেকেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের যে দাবি ছিল, সেই বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের হাতে ছেড়ে না দিয়ে যদি বিষয়টি অন্যভাবে হ্যান্ডেল করা যেত তাহলে ভালো হতো। এটিকে এতদূর যেতে দেওয়াটাই ভুল ছিল আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।

দলের পরবর্তী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, দলে সব সময় পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনাই প্রাণ এবং শেখ হাসিনা হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রাণ ভোমরা। তাকে ছাড়া আওয়ামী লীগ কল্পনা করা যায় না। দলে গণতন্ত্র আছে তাই কোনো লাইনআপ তৈরি করা নেই। সময় এবং পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পরবর্তী নেতৃত্ব তৈরি হয়ে যাবে
মনে রাখতে হবে, কোনো সরকারই কিন্তু শেষ সরকার নয়—এ কথা উল্লেখ করে সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরাও কিন্তু শেষ সরকার ছিলাম না। অনেকে মনে করেনি, সেটা সঠিক। কিন্তু আমি সব সময় মনে রেখেছি। ফলে এই সরকারই শেষ সরকার নয় সেটা মনে রাখতে হবে। তারা যে আগের সরকারের মন্ত্রীদের হাতকড়া পরালেন, ডিম ছুঁড়লেন—ভবিষ্যতের যে ভয়ংকর একটা উদাহরণ তৈরি করে গেলেন, ভবিষ্যতে কী ঘটে সেটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সুতরাং আমি বিএনপির সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে একমত এবং বিএনপি যে গণতন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের কথা বলছে, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছে সেটির সাথে আমরা একমত। প্রয়োজনে বিএনপির সঙ্গে আমরা একযোগে গণতন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা কাজ করবো।

তিনি বলেন, আমরা চাই দেশ ভালো থাকুক। আজকে জাতীয় জীবনে হতাশা নেমে এসেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বাংলাদেশে একটি আপার হাউজ দরকার, এতে অনেক কোয়ালিটিফুল মানুষ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কন্ট্রিবিউট করতে পারবেন। এ ব্যাপারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও বক্তব্য রেখেছেন, তিনিও আপার হাইজের পক্ষে বলেছেন। আমি খোলাসা করে বলছি এটি আমার ব্যক্তিগত অভিমত এটি আমার দলের অভিমত নয়।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের অনেকগুলো সংস্কার দরকার। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব যেটি বলেছেন আমি তার সঙ্গে শতভাগ একমত। আমি মনে করি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই রাষ্ট্র সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।

স্যাটেলাইট টিভি – ইত্তেফাকের ডেস্ক থেকে নেওয়া

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ টাইমস নিউজ ৭১
Theme Customized By Times News 71