
টাইমসনিউজ ডেস্ক
দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ ১০ দফায় ঐকমত্যে পৌঁছেছে বিএনপি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। প্রয়োজনীয় ‘ন্যূনতম’ সংস্কার সম্পন্ন করার পর অতি দ্রুত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে দুই দল।
সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর এই ঐকমত্যের কথা জানানো হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ইসলামী আন্দোলনের আমীর সৈয়দ মো. রেজাউল করিম।
বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মাওলানা সৈয়দ রেজাউল করিমের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনায় আমরা কমবেশি ১০টি দফায় একমত হয়েছি।’
ইসলামী আন্দোলনের আমীর বলেন, ‘দেশের রাজনীতি, পরিস্থিতি এবং মানবতার বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। বিএনপি মহাসচিব আপনাদের (মিডিয়া) যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন সেগুলোই আমাদেরও বক্তব্য।’
ইসলামী শরিয়াহ বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা এবং ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছে দুই দল।
১০ দফা ঐকমত্য:
স্বাধীন, সার্বভৌম ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনের জন্য জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা।
সকল প্রকার আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদ থেকে মুক্তি।
দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি, মানি লন্ডারারদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
ভোটাধিকারসহ সকল মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐক্য বৃদ্ধি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ।
সকল বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা।
আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
প্রশাসন থেকে ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের’ অবশিষ্ট সহযোগীদের অপসারণ।
আওয়ামী-বিরোধী সকল শক্তির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে কাজ করা।
ইসলামী শরিয়াহ বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা এবং ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য না দেওয়া।
ফ্যাসিবাদ বিরোধী শিবিরের মধ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে আঘাতমূলক বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকা।
ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের মতো অন্য কোনো ‘ফ্যাসিবাদী’ শক্তি ক্ষমতায় আসা রুখে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা।
দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বিএনপির সহ-সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলুর সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলামী আন্দোলন কার্যালয়ে যান এবং দলটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এবং যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম উপস্থিত ছিলেন।