প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আগামীকাল ২৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:
“প্রতি বছরের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৪’ যথাযথভাবে উদ্যাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।
জাতিসংঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত এবছরের প্রতিপাদ্য-‘Tourism and Peace’ বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে যথাযথ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।
ভ্রমণ নতুন অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি এবং দৃষ্টিভঙ্গির দরজা খুলে দেয়, স্থাপন করে সম্প্রীতি ও সৌহার্দের সম্পর্ক। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য। দেশি ও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের নানাবিধ উপকরণ বাংলাদেশে বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ, বৈচিত্র্যময় জীবনধারা, বছর ব্যাপী আকর্ষণীয় উৎসব ও সংস্কৃতি, মুখরোচক খাবার, প্রত্ননিদর্শন, বন ও জলাভূমি, এদেশের মানুষের অকৃত্রিম আতিথেয়তা ইত্যাদি বরাবরই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
পর্যটন একটি শ্রমঘন অন্তর্ভুক্তিমূলক শিল্প যেখানে নিয়োজিত রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণির অংশীজন। জাতীয় শিল্পনীতি-২০২২ এ পর্যটন শিল্পের ১২টি উপখাতের উল্লেখ রয়েছে যেখানে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ড এর সুযোগ-সুবিধার মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করছে। ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ড এর মূল চালিকাশক্তি তারুণ্য। তারুণ্যের শক্তি, বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত প্রযুক্তিজ্ঞানকে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। তারুণ্যের কার্যকর প্রয়োগ পর্যটন শিল্পের ইতিবাচক ও গুণগত পরিবর্তন সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পর্যটনের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। পর্যটনের দ্বারা বিভিন্ন জাতির সংস্কৃতির ভাব বিনিময় সম্ভব যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও শান্তির বন্ধন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা প্রচেষ্টায় একটি দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য নাম।
আমি ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৪’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করি।”
প্রকাশক ও সম্পাদক : কামাল মাহমুদ লেলিন
অফিস ঠিকানাঃ ক-১৮/৫/এ/৫ (৩তলা) কুড়িল বড়বাড়ী,ভাটারা,ঢাকা-১২২৯