টাইমসনিউজ ডেস্ক
অদ্য ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে ভোরবেলা রোম থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট BG-356-এ বোমা হামলার হুমকির খবর পাওয়া যায়। অজ্ঞাতনামা একটি মেসেজের মাধ্যমে এই হুমকি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সকল প্রকার সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে খুব সুন্দর কাজ করেছে। তাদের একযোগে কাজ করার কারণে পুরো পরিস্থিতি সহজেই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভবিষ্যতে এভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারব।
বোমা হুমকির খবরটি পাওয়ার সাথে সাথেই বিমানবন্দরের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত Threat and Risk Assessment Committee (TRAC) উক্ত বোমা হুমকি যাচাইপূর্বক ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার (EOC) এক্টিভেট করা হয়। ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার কর্তৃক বিমানবন্দরে বোমা হামলা মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে জানানো হলে সংস্থাসমূহ বিমান অবতরনের পূর্বেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়। উল্লেখিত বিমানটি স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯:২০- এ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
বিমানটিতে ২৫০ জন যাত্রী এবং ১৩ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। অবতরণের পরপরই বিমানটিকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাত্রী এবং ক্রুবৃন্দকে দ্রুত নিরাপদে টার্মিনাল ভবনে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় বিমান ও তার আশেপাশের এলাকার সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করে সিভিল এভিয়েশনের এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক), বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এন্টি টেরোরিজম ইউনিট, টাস্ক ফোর্স, Quick Reaction Force (QRF) এবং সাধারন আনসার সদস্যবৃন্দ , এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এর ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (CRT), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিকিউরিটি বিভাগ, এপিএস, জিএসই টিম, বিমানবন্দরের ফায়ার শাখা, স্বাস্থ্য শাখা এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সদস্যবৃন্দ।
এরপর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট কর্তৃক বিমানটি তল্লাশি এবং পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। বোমা তল্লাশি এবং সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রমে অপেক্ষমান থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে সহায়তা করে অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, পুলিশ সদর দপ্তরের এর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমূহ। এছাড়াও, ডগ স্কোয়াড টিম নিয়ে প্রয়োজনীয় তল্লাশী কার্যে সহায়তা করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এর ডগ স্কোয়াডসমূহ।
অতঃপর সকল কার্যক্রম শেষে কোন ধরনের বোমার সন্ধান না পাওয়ায় দুপুর ১২৩০ ঘটিকায় বিমান ও তার আশেপাশের সকল এলাকা নিরাপদ ঘোষণা করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর সম্মানিত যাত্রীদের ব্যাগেজ সমূহ যাত্রীদেরকে হস্তান্তর করা হলে তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে বিকেল ৪ ঘটিকার সময় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বেবিচক চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি এই অনভিপ্রেত ঘটনায় সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করায় এভিয়েশন সিকিউরিটি, বিমান বাহিনী, এপিবিএন, র্যাব, পুলিশ, ফায়র সার্ভিস, হেলথ, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম অন-সিন কমান্ডার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং এভিয়েশন সিকিউরিটির পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন ডেপুটি অন-সিন কমান্ডার হিসেবে কাজ করে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে খুব সুন্দর কাজ করেছে। তাদের একযোগে কাজ করার কারণে পুরো পরিস্থিতি সহজেই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভবিষ্যতে এভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারব।
প্রকাশক ও সম্পাদক : কামাল মাহমুদ লেলিন
অফিস ঠিকানাঃ ক-১৮/৫/এ/৫ (৩তলা) কুড়িল বড়বাড়ী,ভাটারা,ঢাকা-১২২৯