
নিজস্ব প্রতিবেদক:-
গোপালগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেই শিক্ষকের দারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক মাদরাসা শিক্ষার্থী। এতে লোকলজ্জার ভয়ে অবশেষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে ওই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার ও এলাকাবাসী। মকুসুদপুর উপজেলায় আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৬ নভেম্বর ওই মাদরাসার শিক্ষক খাদিজা বেগমের সহযোগিতায় শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শিকদার ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে। এসময় খাদিজা বেগম তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য দেখানো হয় ভয়ভীতি। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে ওই শিক্ষিকা নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এতে ক্ষোভে ও লোকলজ্জার ভয়ে ঘটনার ৮ দিন পর গত বৃহস্পতিবার নিজ ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে ওই শিক্ষার্থী। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করায় পরিবারের এখন চলেছে শোকের মাতম। অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষিকাসহ জড়িতদের বিচার চান ওই শিক্ষার্থীর পরিবার।
এ ব্যাপারে মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এ ঘটনায় আজ শুক্রবার সকালে ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শিকদার ও শিক্ষিকা খাদিজা বেগমকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই শিক্ষার্থীর আত্মহননে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ও শিক্ষিকা খাদিজা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে জন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।