নিজস্ব প্রতিবেদক:-
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। নিহত ব্যক্তি আফগানিস্তানের নাগরিক হাসমত মোহাম্মদি বলে তার পরিবামমর নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান। নিহতের পরিবার বর্তমানে থানার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবি ও পুলিশকে খবর দেয়। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিচয় শনাক্তে ব্যর্থ হয়ে নিয়ম অনুযায়ী মরদেহটি আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ১৪ এপ্রিল দাফন করা হয়।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মরদেহের ছবি দেখে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মোহাম্মদ ইরা তার ভাইকে শনাক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশে পরিচিতজনদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চালান।
মোহাম্মদ ইরা জানান, তার ভাইয়ের সঙ্গে সীমান্তে যাওয়ার পর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা মাসুদ নামের এক ব্যক্তির ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। কয়েকদিন পর মাসুদের সঙ্গে একবার কথা হলে সে জানায়, “আপনার ভাই বাংলাদেশে মারা গেছে, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।” একই সঙ্গে মাসুদ তার মোবাইল ফোন থেকে দুটি ছবিও পাঠায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ ২২ এপ্রিল বাংলাদেশি আহসানের সহযোগিতায় এবং চৌগাছার সাংবাদিকদের মাধ্যমে ইরা মহেশপুর থানার এসআই টিপু সুলতানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কথোপকথনের ভিত্তিতে মরদেহটি তার ভাইয়ের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন তিনি।
ইরা আরও জানান, তাদের আরেক ভাই, যিনি লন্ডন প্রবাসী, বর্তমানে বাংলাদেশে আসার জন্য ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করছেন।
নিহতের পরিবারের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, হাসমত মোহাম্মদি ইতালিতে বসবাস করতেন এবং ভারতে যাতায়াত করতেন। সেখানে পাথর ও রত্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েক বছর আগে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এক ঘটনায় তিনি ভারতে গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বেকসুর খালাস পেলেও দেশে ফেরার সুযোগ না পেয়ে ভারতে অবস্থান করছিলেন।
সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ হয়ে ইতালি ফেরার পরিকল্পনা করেন। গত ১০ এপ্রিল এক বাংলাদেশি সহযোগীর সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রমের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ১১ বা ১২ এপ্রিল তিনি পরিবারের সঙ্গে শেষবার যোগাযোগ করে জানান, ইছামতি নদী পার হলেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, “সুরতহাল করার সময়ই ধারণা করা হয়েছিল মরদেহটি কোনো বিদেশির হতে পারে। নিহতের ভাই ও ভাবী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই টিপু সুলতান জানান, “আমেরিকা প্রবাসী ভাই মোহাম্মদ ইরার সঙ্গে কথা হয়েছে। মাসুদ নামে এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর পেয়েছি, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।”
ঘটনাটি ঘিরে সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : কামাল মাহমুদ লেলিন
অফিস ঠিকানাঃ ক-১৮/৫/এ/৫ (৩তলা) কুড়িল বড়বাড়ী,ভাটারা,ঢাকা-১২২৯