নিজস্ব প্রতিবেদক:-
কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ও তাদের ৯ মাসের সন্তানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ১২টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে কানিজের বাবার বাড়ির কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় মা-ছেলেকে। এর আগে রাত ১১টা ২০ মিনিটে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজা হয়।
গত শুক্রবার সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে কানিজের স্বামীর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ এবং ৯ মাসের ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার কানিজের বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। তার স্বামী নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে।
জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুরে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে কানিজের বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে গোসল শেষে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে তাদের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখেন জুয়েল। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মানবিক দিক বিবেচনা করে মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে জুয়েলের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারাফটকে ঢুকতে দেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে বিয়ে করেন কানিজ ও জুয়েল। সন্তান জন্মের আগে থেকেই জুয়েল কারাগারে। কানিজের ভাই শুভ জানান, স্বামী কারাবন্দী থাকায় অনেকটাই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তার বোন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে অন্য কিছুও থাকতে পারে। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। শুভ বলেন, ‘ছেলেটারে আমার দুলাভাই একবারও কোলে নিতে পারেনি। শেষবারের জন্য যেন একটু দেখতে পারে, তাই কারাফটকে নিয়ে গিয়েছিলাম।’
এদিকে স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় আসতে জুয়েলকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছে। বাগেরহাটের জেলা
প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্যারোলের একটি আবেদন তার পরিবার এনেছিল। তাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে। যেহেতু জুয়েল যশোরের কারাগারে আছেন, আবেদন করতে হবে সেখানকার (যশোরের) জেলা প্রশাসক বা জেল সুপারের কাছে। এখানকার প্রশাসন তাদের বিষয়ে যশোর কারাগারেও বলে দিয়েছিল। কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছিল, যেন সুন্দরভাবে মৃত স্বজনকে দেখতে পারেন জুয়েল। তাদের সেখানে যাওয়া এবং দেখার বিষয়ে সব সহযোগিতা আমরা করেছি।’
জুয়েল হাসান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন থেকেই বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে আছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক : কামাল মাহমুদ লেলিন
অফিস ঠিকানাঃ ক-১৮/৫/এ/৫ (৩তলা) কুড়িল বড়বাড়ী,ভাটারা,ঢাকা-১২২৯