
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির পোশাক রপ্তানি চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অথচ চীন ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো এই বাজারে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল অফিসের (ওটেক্সা) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১০.২৭ শতাংশ কমে ৪১০ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৫৭ কোটি মার্কিন ডলার।
পরিমাণের দিক থেকেও বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই সময়ে ১৩৩ কোটি বর্গমিটার পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় (১৩৯ কোটি বর্গমিটার) ৪.৫৫ শতাংশ কম।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, দীর্ঘ চালান সময়ের কারণে মার্কিন ক্রেতারা বাংলাদেশে তাদের অর্ডার কমিয়ে দিচ্ছেন। “গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির পাশাপাশি ব্যাংকিং ও শুল্ক পদ্ধতির জটিলতার কারণে রপ্তানি পণ্যের চালান বিলম্বিত হচ্ছে,” বলেন একজন রপ্তানিকারক।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে পোশাক রপ্তানি আয়ের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, কারণ অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলো সমাধান হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের অব্যাহত ঘাটতির পাশাপাশি ব্যাংকের সঙ্গে ঋণপত্র খোলা এবং শুল্ক পদ্ধতির জটিলতা চালান বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং সামগ্রিক রপ্তানি কার্যক্ষমতাকে প্রতিকূলভাবে প্রভাবিত করছে।’
তবে হাতেম আশা প্রকাশ করেছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কাজ করছে বলে আগামী মাসগুলোতে এই বাজারে পোশাক রপ্তানি গতি পাবে।
ওটেক্সার তথ্য দেখায় যে, ২০২৪ সালের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি ৪.৬৫ শতাংশ কমেছে। তবে চীন ও ভিয়েতনাম যথাক্রমে ২১.০৯ শতাংশ এবং ১৮.৫৪ শতাংশ শেয়ার নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থান দখল করে আছে।
৯ শতাংশ শেয়ার নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৃতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে।