1. admin@timesnews71.com : অ্যাডমিন :
সংবেদনশীল কল ডিটেইলস ও এনআইডি তথ্য বিক্রির অভিযোগে অ্যাপ ডেভেলপারকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি | টাইমস নিউজ ৭১
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মধুখালীর ১১ বিদ্যালয়ের ‘সততা স্টোর’ পরিদর্শনে দুদক, সততা চর্চায় গুরুত্ব স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অংশ নিতে পারবেন না: ইসি সচিব শিক্ষকদের বদলির তদবিরের ভিড়ে অফিসে ঢুকতে পারি না : শিক্ষামন্ত্রী উন্নত চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী পুলিশে বড় রদবদল, ৪ ডিআইজিসহ ১৪ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আটক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌ-প্রধানের সাক্ষাৎ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান খানের পদত্যাগ মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সাথে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ এবার সেই মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

সংবেদনশীল কল ডিটেইলস ও এনআইডি তথ্য বিক্রির অভিযোগে অ্যাপ ডেভেলপারকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

আলী আহসান রবি:-

দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ ও অর্থের বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগে অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডেভেলপার মোঃ আরমান হোসেন (২২), পিতা- আব্দুল মান্নান, মাতা- আনোয়ারা খাতুন, ঠিকানা: গ্রাম- উত্তর রহিমপুর, ইউনিয়ন- পার রামরামপুর, থানা- দেওয়ানগঞ্জ, জেলা- জামালপুরকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) বিভাগের ছাত্র।

গত ০৯ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখ সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় সিআইডির সদর দপ্তরের সাইবার পুলিশ সেন্টারের অধীন সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিংকালে ‘Siam Howlader’ নামক একটি ফেসবুক আইডি নজরে আসে। যেখানে দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) পূর্ণাঙ্গ ডেটা, এসএমএস (SMS) তালিকা, বিকাশ/রকেট/নগদসহ বিভিন্ন এমএফএস অ্যাকাউন্টের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিআইডি অনুসন্ধান শুরু করে।

অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৩ অক্টোবর রাতে লক্ষ্মীপুরের অভিযান চালিয়ে কমলনগর থানা এলাকা থেকে মো. সিয়াম হাওলাদার (২৩)কে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, হার্ডডিস্ক ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়। তার স্মার্টফোনে ‘সব এখানে’ (Sob Akhane) নামক একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ পাওয়া যায় । প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে “সব এখানে” নামীয় একটি অ্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির কথা স্বীকার করে।

সিয়ামকে গ্রেফতারের পর ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে সিআইডির এসআই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে এ সংক্রান্তে পল্টন মডেল থানায় মামলা নং-২৪, তারিখ: ১৪/১০/২০২৫ খ্রি., ধারা- ১৭/২১/২৭ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ রুজু করেন।

পরবর্তীতে সিয়ামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ অক্টোবর খুলনার কয়রা থেকে গ্রেফতার করা হয় চক্রের অন্যতম অ্যাডমিন মো. আল আমিনকে (২৩)। আল আমিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানান, তিনি শুধু বিপণন দেখতেন, কিন্তু এই পুরো সিস্টেম এবং অ্যাপটি তৈরি করেছে এক দক্ষ প্রোগ্রামার।
পরবর্তীতে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ০৫ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে সাইবার পুলিশ সেন্টার, সিআইডির একটি আভিযানিক দল ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডেভেলপার মো. আরমান হোসেনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকালে তার কাছ থেকে ০৩টি মোবাইল ফোন, ০৬টি সিমকার্ড (যার মধ্যে ০৩টি বিকাশ মার্চেন্ট সিম) এবং ০১টি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র। সে প্রোগ্রামিং এবং ওয়েব ডেভেলপিংয়ের কাজে খুবই দক্ষ। এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সে পূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামি মো. আল আমিনের নির্দেশনা অনুসারে sobakhane.xyz, sobakhane.online, sobakhane.info নামীয় ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করে। পরবর্তীতে ‘সব এখানে’ নামক অ্যাপ তৈরি করে এই চক্রের অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সম্পূর্ণ ডেটা, এসএমএস তালিকা, বিকাশ/রকেট/নগদ অর্থাৎ এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য বিবরণী এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্যসহ অন্যান্য বিভিন্ন তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের গোপনীয় সংবেদনশীল যেসকল তথ্য বিক্রি করা হয় সেগুলো জাতীয় গোপনীয় ডাটাবেজ থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসকল গোপনীয় সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে। এই চক্রের কয়েকজনের সাথে আসামির হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটির পূর্ণ রহস্য উদঘাটন ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সিআইডি এই ধরনের অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর এবং সাধারণ জনগণকে এ ধরনের প্রতারণামূলক অনলাইন অফার থেকে সতর্ক থাকার জন্য নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ টাইমস নিউজ ৭১
Theme Customized By Times News 71