টাইমসনিউজ ডেস্ক:
সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার বাইরে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ গেজেটভুক্ত এক হাজার ৩৯৯ জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। গেজেট জারির ২০ বছর পার হলেও এসব শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ আবেদন করেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। যোগাযোগ করা হয়নি পরিবারের সঙ্গে।
দীর্ঘদিন পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। শহীদ পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করা হলে সরকারের উদ্যোগেই তাদের সব সুযোগ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ‘শহীদ, খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা বিতরণ আদেশ, ২০২১’ অনুযায়ী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সুবিধা দেওয়া হয়। ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিন দফায় গেজেটে ৬ হাজার ৭৫৭ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে ৫ হাজার ৩৫৮ জনের পরিবার আবেদন করে ভাতা নিচ্ছে। অবশিষ্ট এক হাজার ৩৯৯ জন কোনো ভাতা নেন না।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের মাসিক ৩০ হাজার টাকা হারে সম্মানি ভাতা এবং বছরে ২৩ হাজার টাকা হারে দুটি উৎসব ভাতা, দুই হাজার টাকা নববর্ষ ভাতাসহ আরও কিছু আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় বলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে জানা যায়।
এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম জাগো নিউজকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা ভাতা পান। বেসামরিক শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট হয় প্রথমে ২০০৩ সালের ৬ অক্টোবর। সামরিক শহীদদের গেজেট হয় ২০০৪ সালের ১২ এপ্রিল। পুলিশ ও বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট হয় ২০০৫ সালের ১৫ জুন। শহীদদের তালিকায় মোট নাম এসেছে ৬ হাজার ৭৫৭ জনের।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৩০ বছরেরও বেশি সময় পর শহীদদের তালিকা হয়েছে। সেখানে ৬ হাজার ৭৫৭ জন, কিন্তু উনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) বলেছেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩০ লাখ।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘গেজেটভুক্তদের মধ্যে ৫ হাজার ৩৫৮ জন ভাতা পাচ্ছেন। অবশিষ্ট এক হাজার ৩৯৯ জন কোনো ভাতা পাচ্ছেন না। কেন তারা ভাতা পাচ্ছেন না- জানতে চাইলে অফিসাররা বলেন, স্যার এদের পরিবার কখনো আবেদন করেনি।’
‘আমি বললাম রাষ্ট্র কী কোনোদিন জানতে চেয়েছে তারা কারা? তারাই রাষ্ট্র এনেছে। যারা রাষ্ট্র এনেছে তারা কৃষক, তারা শ্রমিক, তারা এত চালাক-চতুর লোক না, এরা বোকা লোক। তারা এসব বোঝে না, তারা গেজেট বোঝে না। তালিকা বোঝে না।’
তিনি বলেন, ‘যিনি শহীদ হয়েছেন তার স্ত্রী হয়তো গৃহবধূ ছিলেন, সে তো গেজেট বোঝে না। রাষ্ট্র কেন তার কাছে গেলো না?’
ফারুক ই আজম বলেন, ‘আমি ডিসি সম্মেলনে ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছি, কল্যাণ ট্রাস্টও সেখানে (পরিবারের খোঁজে) যাবে। সব ডিসিদের বলা হয়েছে, যারা ভাতা নিচ্ছেন না, এমন শহীদদের তালিকাও তাদের দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের ঘরে ঘরে যেতে হবে। গিয়ে আমাকে আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে জানাতে হবে যে এ শহীদদের অ্যাড্রেস করা হয়েছে। তাদের কেউ আছে, কী নেই।’
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাদের পরিবার রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো সম্মান ও সুবিধা নেয়নি কিংবা পাচ্ছে না জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এত বছরে কেউ কী এটার খোঁজ নেয়নি- জিজ্ঞাসা করলে কর্মকর্তারা বলেন, না কেউ জিজ্ঞাসাও করেনি। যারা কল্যাণ ট্রাস্টে ছিল তাদের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। মন্ত্রণালয়ের তো ছিলই না। আমি কৌতূহল থেকে এ বিষয়টি দেখতে গিয়ে এটি পেয়েছি।’
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইসমাইল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা তিন ক্যাটাগরিতে (শহীদ, খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা) ১৮ হাজার ২০০ জন বা তাদের পরিবারকে ভাতা দেই। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে এক হাজার ৩৯৯ জনের পরিবার ভাতা নিচ্ছে না। তারা আবেদন করেননি। এতদিন এ বিষয়টি কেউ সেভাবে ভাবেনি। তবে তাদের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। তবে আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা কেউ তা করেননি।’
তিনি বলেন, ‘এখন উপদেষ্টা মহোদয় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমরা ডিসিদের দায়িত্ব দিয়েছি। তাদের লিখিত ও মৌখিক দুই ভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারা যাতে দ্রুত এ কাজটি করেন। তারা পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করতে পারলে তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের কাজটি আমরাই করে দেবো।’
প্রকাশক ও সম্পাদক : কামাল মাহমুদ লেলিন
অফিস ঠিকানাঃ ক-১৮/৫/এ/৫ (৩তলা) কুড়িল বড়বাড়ী,ভাটারা,ঢাকা-১২২৯