টাইমসনিউজ ডেস্ক:
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশিত ছয় পর্বের এক লেখায় বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং আওয়ামী লীগের শাসনামলে নিরাপত্তা বাহিনীতে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মানবাধিকার লঙ্ঘন, ষড়যন্ত্র, এমনকি হত্যার চেষ্টা—এসব নিয়ে সাবেক সেনাপ্রধানের বিবরণীতে উঠে এসেছে নানা অজানা তথ্য।
ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার লেখায় দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি র্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই-সহ বিভিন্ন বাহিনীতে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ বন্ধের চেষ্টা করেছিলেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তার এই অবস্থান তাকে জিয়াউল আহসানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলে। তিনি এমনকি দাবি করেন যে, জিয়াউল আহসান তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।
বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বিরোধীদের ফোনে আড়িপাতা এবং অন্যান্য অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের উওর হামলা, গত বছরের জুলাই মাসের আন্দোলন এবং নারায়ণগঞ্জ সাত খুনের ঘটনায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং নেতাদের পলায়নের পর, জিয়াউল বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন।
২০১২ সালে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেয়ার পর ইকবাল করিম ভূঁইয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে র্যাব থেকে সেনা সদস্যদের প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করেন। র্যাবের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। শেখ হাসিনা এতে সম্মতি জানালেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তাকে র্যাবে আরো সেনা কর্মকর্তা পাঠানোর জন্য চাপ দেন বলেও তিনি দাবি করেন।
‘ক্রসফায়ার’ বন্ধের জন্য জিয়াউল আহসানকে নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি বলে লেখায় উল্লেখ করেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। জিয়াউলকে ঢাকা সেনানিবাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণাও করেন তিনি। জিয়াউলের আচরণ অসহনীয় হয়ে উঠলে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে তার সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা জানান যে জিয়াউলের মন ‘ইট পাথর’ দিয়ে তৈরি।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সামরিক সচিব এবং সহকারী সামরিক সচিবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে জিয়াউল তার আদেশ অমান্য করতেন বলেও ইকবাল করিম দাবি করেন। র্যাব এবং অন্যান্য ইউনিটে তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
র্যাব বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়ে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘র্যাব নিয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’ তিনি বর্তমান সেনাপ্রধানকে এই বাহিনী বিলুপ্ত করার সুপারিশ করার জন্য অনুরোধ জানান।
ইকবাল করিম ভূঁইয়ার এই লেখা নিয়ে আইএসপিআর এর মন্তব্য, ‘এটি তার ব্যক্তিগত মতামত। আইএসপিআর-এর এ বিষয়ে কোন মন্তব্য নেই।’
প্রকাশক ও সম্পাদক : কামাল মাহমুদ লেলিন
অফিস ঠিকানাঃ ক-১৮/৫/এ/৫ (৩তলা) কুড়িল বড়বাড়ী,ভাটারা,ঢাকা-১২২৯