নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও বিএডিসি সার ডিলাররা ইউরিয়া বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত! কৃষকদের ভোগান্তি!
সার নিতিমালা যতটা সহজ ও সিন্ডিকেট মুক্ত হবে ঠিক ততটাই উপকৃত হবে কৃষকরা। কৃষকের জন্যই সার, সেই সার ডিলারদের মধ্যে বিএডিসি ও বিসিআইসি বিভিন্ন ভাগাভাগির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা। এক দোকান থেকে ইউরিয়া আবার আর এক দোকান থেকে নন-ইউরিয়া এ নিয়মে কৃষকরা ভুগান্তিতে পরে।
অনুসন্ধানে জানা যায় অধিকাংশ ডিলাররা নিজ নিজ ডিলার পয়েন্টে ব্যবসা করেন না, নামে মাত্র দোকান থাকলেও সার নামানো হয় থানা পর্যায় দোকানে এতে করে খুচরা ডিলারদের সার পরিবহন ব্যায় বেড়ে যায়। সে দাম বৃদ্ধির চাপ অটোমেটিক কৃষকের উপর পরে।
পতিত স্বৈরাচার সরকারের আমলের বিসিআইসির সার ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙ্গতেই পারলেই সার ব্যবস্থাপনা সঠিক গতি ফিরে আসবে ধারনা করা হয় ।।।
বিসিআইসি ডিলার সভাপতি বিগত পতিত স্বৈরাচার সরকারের আমলে হাজার কোটি টাকার সার চুরির কোন সমাধান পতিত সরকার করনি, সেই ডিলার এসোসিয়েশন এখনো বলবদ রয়েছে! কিন্তু এ সরকার ও যদি এ বিসিআইসি ডিলার সিন্ডিকেট ভাংতে না পারে তাহলে ভবিষ্যতেও আর কোনদিন এর সমাধান হবে না।
বিগত স্বৈরাচার পতিত সরকারের আমলে ইউনিয়ন বাসিন্দা না হয়েও অন্য ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের ব্যাক্তিবর্গ ক্ষমতার জোরে ডিলার নিয়েছে!
ডিলার নিতিমালা অনুসারে ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া অন্য সকল ডিলারদের নিয়োগ বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগ দিলে অটোমেটিক সার ডিলার সিন্ডিকেট ভেঙে যাবে।
অতিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক পরিবারে ৩-৪-৫ করে বিসিআইসি ডিলার আবার কোন পরিবারের ৭ টি পর্যন্ত বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছে। এ ভাবে এক পরিবারে একাধিক ডিলার থাকলে কোন ভাবেই কৃষক বান্ধব নিতিমালা হতে পারে না।
নতুন নিতিমালায় এক পরিবারে একাধিক ডিলার থাকতে পারবে না, যাদের আছে তাদের একটি বাদে অন্য সব ডিলার বাতিল করলে নিতিমালা কাজে আসবে। কৃষকদের দাবি ও তাই। এছাড়া কৃষি কর্মকর্তা ও খামারবাড়ির কর্মকর্তারাও একমত পোষণ করেছেন।। পরিবারের একাধিক ডিলার বাতিল না করলে যত নিতিমালায় হোক না কেন কোন কাজে আসবে না।।
আবার কোন ডিলার ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় নাগরিক না হয়েও অন্য ইউনিয়নে বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলার নিয়োগ পাওয়ায় সার পেতে কৃষকের ভুগান্তি পোহাতে হয়।।
স্বাভাবিক ভাবেই যে ডিলারদের ডিলার ঠিকানা অনুসারে দোকান নেই বা সার উত্তোলন করেনা সেই ইউনিয়নের কৃষকরা বেশি ভোগান্তিতে পরে। ইউনিয়নে সার না উত্তোলনের কারনে কৃষকের থানা পর্যায়ের দোকান থেকে বা অন্য ইউনিয়নে সার কিনতে যেতে হয়। এতে খরচ ও সময় বৃদ্ধি পায়, বিধাই পুর্বের নিয়মের কারণে কৃষকরা বিরক্ত।।
ফরিদপুরের মধুখালীর এক কৃষক মোঃ এজেন শেখ বলেন এক দোকানে ইউরিয়া অন্য দোকানে নন-ইউরিয়া কিনতে আমাদের ভোগান্তিতে পরতে হয়। আমরা কৃষকরা কেন বিভিন্ন দোকানে ঘুরবো এক দোকানে যাব সে দোকান থেকে ইউরিয়া নন-ইউরিয়া সার কিনে মাঠে যাব। আমরা বিএডিসি বা বিসিআইসি বুঝিনা আমরা কৃষকরা সকল সার এক দোকানে পেতে চাই এবং নিজ ইউনিয়ন থেকেই সার কিনতে চাই আমাদের যেন ডিলারদের মার পেচে অন্য ইউনিয়নে যেতে না হয় এটাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি।
অন্যান্য কৃষকরাও এজেন শেখের সুরে সুর মিলিয়ে বলেন বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলার মারপ্যাঁচে আমরা পরতে চাই না। আমরা কৃষকরা আমাদের সব প্রকার সার এক দোকান ও নিজ ইউনিয়ন থেকেই কিনতে চাই। সার বহন খরচ বেশি লেগেছে বা থানার ডিলার থেকে আনতে খরচ বেড়েছে এ রকম কোনো প্যাঁচে আমাদেরকে পরতে যাতে না হয় সে দিকে সরকারের সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বিএডিসি সার ডিলার ইমান আলী (সভাপতি, বিএডিসি সার ডিলার এসোসিয়েশন, ফরিদপুর)বলেন, আমরাও বিএডিসি ডিলার ইউরিয়া পাই না, এতে করে সার ব্যবসা করা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ইউরিয়া না পাওয়ায় কৃষকরা আমাদের কাছে আসতে চাইনা । বিএডিসি সার বরাদ্দ খুবই কম, এর মধ্যে আবার বিএডিসি সার এর অর্ধেক বরাদ্দ বিসিআইসিকে দেওয়া হয় কিন্তু বিসিআইসির কোন সার বিএডিসিকে দেওয়া হয় না বলে আমরা ব্যাবসায়ীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।। অল্প বরাদ্দ সার বিক্রি করে বিএডিসি ডিলারদের সংসার চলে না।।এ ভাবে নিয়মের জালে আর কতো দিন বিএডিসি অবোহেলিত থাকবে!
তিনি বলেন সরকারের কাছে আমাদের দাবি বিএডিসির সার বিসিআইসি পেলে বিসিআইসির সার ও বিএডিসিকে দিতে হবে।। বিএডিসি ডিলারদের ও ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যাথায়, বিএডিসির সার শুধু বিএডিসি পাবে, বিসিআইসির সার শুধু বিসিআইসি পাবে,কেউ কারো সার নিতে পারবেনা।। এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক : কামাল মাহমুদ লেলিন
অফিস ঠিকানাঃ ক-১৮/৫/এ/৫ (৩তলা) কুড়িল বড়বাড়ী,ভাটারা,ঢাকা-১২২৯