
আলী আহসান রবি:-
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, সারাদেশ থেকে রোগীরা এখানে আসেন। কোথাও চিকিৎসা না পেলে মানুষ বলে, “পিজি হাসপাতালে নিয়ে যান”, “মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে” নিয়ে যান। মানুষ অনেক আশা নিয়ে এখানে আসে।
আমরা চাই, আপনারা এই বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করুন, যাতে আমাদের আর বলতে না হয়—“এভারকেয়ারে পাঠান” বা “ইউনাইটেডে পাঠান। বরং আমরা গর্ব করে বলতে পারি—রোগীকে “মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে” পাঠান। আর এই অবস্থান যদি তৈরি হয়, তাহলে সেটিই হবে আমাদের গর্ব।
বাংলাদেশে একটি গুণগত মানসম্পন্ন উন্নত আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আজ রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাঃ মিলন হলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণসভা উদযাপন কমিটি আয়োজিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
স্মরণ সভায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও স্মরণসভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, এমপি, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাক্তার এফ এম সিদ্দিকী, বিএমএ ও ড্যাব এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম আজিজুল হক, ড্যাব এর সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ হারুন আল রশীদ, ড্যাব এর মহাসচিব ডাঃ মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্মরণ সভা আহ্বায়ক কমিটির সমন্বয়ক ডাঃ এহেতাশামুল হক তুহিন এবং সদস্য সচিব ডাঃ এবিএম শফিউল্লাহ প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতা সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন,
নির্ভীক মানুষ যদি কাউকে বলতে হয়, তার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস। কোনো অবস্থাতেই তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়ার মানুষ ছিলেন না।
তিনি যখন ছাত্র, তখন ‘৭৮-‘৭৯ সালের কথা বলছি। আর আমি তখন মেডিকেলে কেবল সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। দুজন ছেলে ছিল, যারা খুবই দুষ্ট ছিল। তাদের কারণে সবাই অতিষ্ঠ ছিল। তাদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস অনেকেরই ছিল না। কিন্তু আমি আমার চোখের সামনে দেখেছি—মেডিকেল কলেজ চত্বরে, ক্লাস চলাকালীন অবস্থায়, তিনি একাই দাঁড়িয়ে সেই দুজনকে এমনভাবে মোকাবিলা করেছিলেন যে তারা সবকিছু মানতে বাধ্য হয়। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষকে যেভাবে সহযোগিতা করেছিলেন এবং যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা সত্যিই অসাধারণ।
তাঁর হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না—শুধু দুটি হাত, বুকভরা সাহস এবং নৈতিক দৃঢ়তা। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। আর যাদের বিরুদ্ধে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন, তারা নৈতিকভাবে দুর্বল ছিল। হয়তো শারীরিকভাবে বড় ছিল, কিন্তু নৈতিক দুর্বলতার কারণে তারা তাঁর নৈতিক শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছিল এবং আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। এরপর আর কখনো মেডিকেল কলেজে সে ধরনের পরিবেশ দেখার সুযোগ হয়নি।
মন্ত্রী এ ক্যাম্পাসে সেই সময়ে তার মনে পড়া একটি কথা উল্লেখ করে বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের কথা মনে আছে। এই ক্যাম্পাসে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা নিশ্চয়ই সেই ঘটনার কথা স্মরণ করতে পারছেন। লগি-বৈঠার তাণ্ডব—২৮ অক্টোবর ২০০৬। আমি নিজেও তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজে ছিলাম। ওই সময়ও তিনি যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, আমরা তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী।
আমি মনে করি, একজন মানুষ সেকেন্ড ইয়ারে পড়া অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে যান—কতটা দেশপ্রেম, কতটা টান থাকলে এটি সম্ভব! আর পরবর্তীতেও দেশের যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে, স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিটি কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা শহরে যত কর্মসূচি হয়েছে, যেকোনো সময়ে কয়েকজন মানুষকে নিয়মিত উপস্থিত দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস।
মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি তাঁর আনুগত্য কতটা ছিল, তার একটি উদাহরণ দিই। একবার শহীদ জিয়ার মাজার জিয়ারত করে ফেরার সময় ব্রিজ থেকে পড়ে তাঁর হাত ভেঙে যায়। পরে আজকের প্রধানমন্ত্রী, তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ব্যক্তিগতভাবে কুদ্দুস ভাইয়ের খোঁজখবর নিয়েছেন, তাঁর চিকিৎসার খবর নিয়েছেন এবং তাঁকে অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন।
এছাড়া আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চোঁখের চিকিৎসার জন্য আমরা একটি ছোট দল গঠন করেছিলাম। সেই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস। বিশ্বস্ততার মাপকাঠিতে বিবেচনা করেই মাত্র কয়েকজনকে সেই দলে নেওয়া হয়েছিল। ম্যাডামকে যেহেতু দেশের বাইরে নেওয়া সম্ভব ছিল না এবং তিনি বাইরে যানওনি, তাই তাঁর বাসভবন কিংবা এভারকেয়ার হাসপাতালের কেবিনেই চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই পুরো ব্যবস্থাপনায়ও তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমি সবসময় তাঁর মধ্যে আন্তরিকতা দেখেছি। যেকোনো সময় প্রয়োজনে তাঁকে হাতের কাছে পাওয়া যেত। তিনি মানুষকে সাহায্য করতেন।
ডাঃ মোঃ আব্দুল কুদ্দুস এর কথা উল্লেখ করে বলেন,আপনারা যদি বাড্ডা এলাকায় যান, দেখবেন তিনি শুধু একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞই নন; সাধারণ মানুষের নানা সামাজিক সমস্যারও আশ্রয়স্থল ছিলেন। ছেলের বিয়ে, মেয়ের বিয়ে, বাড়িঘরের ঝামেলা, পারিবারিক বিরোধ—যেকোনো সালিশে মানুষ বলত, “ডাক্তার সাহেবকে লাগবে, নতুন বাজারের ডাক্তার কুদ্দুসকে ডাকেন”।
অর্থাৎ তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। এই জনপ্রিয়তা কিন্তু একদিনে আসে না; এটি অর্জন করে নিতে হয়।
এটি মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের হৃদ্যতার ফল। বাড্ডায় একজন-দুজন ডাক্তার ছিলেন, কিন্তু আজকের এই বাড্ডা তখনকার বাড্ডা ছিল না। আমি আপনাদের ১৯৯০ সালের বাড্ডার কথা বলছি। তখন ওই এলাকাজুড়ে শুধু পানি আর পানি। এত উঁচু রাস্তা ছিল না। ১৯৮৮ সালের বন্যায় আমেরিকান এম্বাসির সামনের এলাকায় প্রায় বুকসমান পানি ছিল।
কাজেই ওই সময় বাড্ডা এলাকায় দুজন ডাক্তারের নাম মানুষ খুব শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করত—একজন ডা. এম. এ. কুদ্দুস, আরেকজন ডা. হাসিব। যেকোনো প্রয়োজন, পরামর্শ, চিকিৎসা কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ে মানুষ তাঁদের কাছেই যেত। মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে কুদ্দুস ভাই খুবই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
এমনকি আমার নিজের কথাই যদি বলি—২০০… সালের পরে আমি পালিয়ে ছিলাম, পরে আত্মসমর্পণ করেছি, জেলখানায়ও গিয়েছি। তখন আমার পরিবার ঢাকায় থাকতে না পারায় ময়মনসিংহে আমাদের পৈতৃক বাড়িতে, আমার মায়ের কাছে চলে যায়। সেই সময় কুদ্দুস ভাই এখান থেকে আরও কয়েকজন ডাক্তারকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়েছেন, আমার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। ওই সময় অনেকে আমাদের আশ্রয় দিতেও সাহস করত না। কিন্তু তিনি সেই সাহস দেখিয়েছেন।
কাজেই তাঁকে আমাদের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাঁর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা থাকা উচিত। সে কারণেই আজ কুদ্দুস ভাইয়ের এই স্মরণসভা।
কুদ্দুস ভাইয়ের শেষ জীবনের একটি ঘটনার কথা হয়তো তাঁর ছেলে বলেছে। আমি সে বিষয়ে বেশি যেতে চাই না। তবে একটি কথা বলতে চাই—আমরা যখন কোনো চেয়ারে বসি, তখন সবসময় মনে রাখা উচিত, এই চেয়ার কারও জন্য স্থায়ী নয়। এই চেয়ার কিছুক্ষণ পরেই আমার কাছ থেকে চলে যেতে পারে। কাজেই যতক্ষণ এই দায়িত্বে আছি, ততক্ষণ চেয়ারের প্রতি ন্যায়বিচার করতে হবে, পদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে হবে এবং দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
আমরা সংবিধানের কথা বলি। কিন্তু সংবিধানের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের তো লিখিত সংবিধান নেই, কিন্তু তারা দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক প্রথা অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। কাজেই আপনাকে বুঝতে হবে আপনি সঠিক কাজ করছেন, না ভুল করছেন। আপনি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আজকে আপনি ক্ষমতার কথা বলেন, বিধি-বিধানের কথা বলেন। কিন্তু আপনি যে এই চেয়ারে বসেছেন, সেটি কি কেবল কোনো বিধানের কারণে? ৫ আগস্টের পরিবর্তনের কারণেই তো এই সুযোগ এসেছে।
আমরা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে জনগণের সেবা করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের ম্যান্ডেট দিই। আমাদের দায়বদ্ধতা আছে সংবিধানের প্রতি, আবার এই দেশের মানুষের প্রতিও।
ধরুন, চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৫১ জন মানুষ মারা গেলেন। সংবিধানে কোথাও লেখা নেই যে সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। কিন্তু তাই বলে কি আমরা বসে থাকব? না, আমাদের মানবিকভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
আজ সকালেই দিনাজপুরে প্রচণ্ড বৃষ্টির একটি ছবি দেখলাম। একটি কাঁচা মাটির ঘর ধসে পড়ে একজন মহিলা মারা গেছেন। এখন কি আমরা আগে খুঁজব তাঁর জন্য সব নিয়মকানুন পূরণ হয়েছে কি না? নাকি আগে মানবিক দায়িত্ব পালন করব? প্রয়োজনই এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন,
আমি সবার কাছে, এমনকি নিজের কাছেও অনুরোধ- এই চেয়ার একদিন অন্য কারও হবে। তাই যতক্ষণ এই দায়িত্বে আছি, ততক্ষণ এর প্রতি ন্যায়বিচার করাই আমাদের কর্তব্য। এটিই আমাদের গণতান্ত্রিক চর্চা হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, আরেকটি কথা বলে শেষ করছি। আজকাল বিভিন্নভাবে অনেক কথা বলা হচ্ছে। আজও দেখলাম কয়েকটি পত্রিকায় লেখা হয়েছে—’Their counting days’। তাঁদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, ১৯৯১ সালেও পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যাওয়া এক স্বৈরশাসক সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছিলেন, বিএনপি নামের দলটি নাকি ১০টি আসনও পাবে না। অনেক সাংবাদিক বন্ধুরই নিশ্চয়ই সেই কথা মনে আছে।
কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি এই দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছিল।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে অনেকেই নানা ধরনের স্পেকুলেশন করছিলেন, অনেক কথা বলছিলেন। কিন্তু সমস্ত কিছুর মুখে ছাই দিয়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে মানুষ অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে দেশের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকার ছয় মাস অতিক্রম করেছে। এই ছয় মাসে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরপরই রমজান শুরু হয়েছে। এরপর ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হওয়ার কথা ছিল, এবং অনেক দেশেই তা হয়েছে। কিন্তু সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে।
এছাড়া এই দেশ থেকে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার—কেউ বলেন ২৮২ বিলিয়ন, কেউ বলেন ৩০০ বিলিয়ন—পাচার হয়ে গেছে। এত প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে, আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি ধীরে ধীরে কমছে, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে এবং সরকার তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
এখানে মাননীয় উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য মহোদয়গণ উপস্থিত আছেন। আমি শুধু একটি কথাই বলতে চাই।
কুদ্দুস ভাই যখন হাজী স্যারের সময় এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন, তখন আমি স্যারকে বলেছিলাম—স্যার, তাঁকে এমন একটি জায়গায় দায়িত্ব দিন, যেখানে একজন সৎ মানুষের প্রয়োজন, যেখানে অপচয় ও অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। স্যার তাঁকে যথার্থ জায়গাতেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
আজ যদি তখনকার ট্রেজারার এখানে থাকেন, তাহলে তিনি দেখাতে পারবেন—কুদ্দুস ভাই আসার আগের মাসে কী অবস্থা ছিল, আর তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার পর কত টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কত কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছিল। অর্থাৎ একজন সৎ মানুষ থাকলে কীভাবে অপচয় ও অনিয়ম প্রতিরোধ করা যায়, তিনি তার বাস্তব উদাহরণ।
ঠিক একইভাবে আমি আজ বলতে চাই, যেহেতু কুদ্দুস ভাই এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, মাননীয় উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য এবং ট্রেজারার মহোদয়সহ এখানে উপস্থিত সকল শিক্ষক, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলছি—এটি দেশের প্রধান চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (Premier Institute of the Country)।
সারাদেশ থেকে রোগীরা এখানে আসেন। কোথাও চিকিৎসা না পেলে মানুষ বলে, “পিজি হাসপাতালে নিয়ে যান”, “মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে” নিয়ে যান। মানুষ অনেক আশা নিয়ে এখানে আসে।
আমরা চাই, আপনারা এই বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করুন, যাতে আমাদের আর বলতে না হয়—“এভারকেয়ারে পাঠান” বা “ইউনাইটেডে পাঠান।” বরং আমরা গর্ব করে বলতে পারি—“রোগীকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান।”
এই অবস্থান যদি তৈরি হয়, তাহলে সেটিই হবে আমাদের গর্ব।
বাংলাদেশে একটি গুণগত মানসম্পন্ন চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
শুধু ডাক্তার নয়, আমাদের নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে যেন দক্ষ ও মানসম্পন্ন জনবল তৈরি হয়। মানুষ যেন এখানে চিকিৎসা নিতে এসে সন্তুষ্ট হয়ে বলতে পারে—“This is the best institute in the country.”
এই প্রতিষ্ঠানকে সেই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব শুধু উপাচার্যের নয়; আপনার টিমের এবং এখানে উপস্থিত প্রত্যেকের।
কারণ উপাচার্য বা প্রো-উপাচার্য একা কিছুই করতে পারবেন না। যদি আমার নার্স বোনেরা তাঁদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করেন, যদি মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা তাঁদের দায়িত্ব পালন না করেন, যদি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তাঁদের কাজ সঠিকভাবে না করেন, তাহলে কোনোভাবেই এই প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
ভাইস চ্যান্সেলর থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত সবাইকে একই উচ্চতায় দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। কীভাবে সবাইকে উৎসাহিত করবেন, কীভাবে উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেবেন, কীভাবে এই প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেবেন—এসবই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু এই প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের অন্যান্য মেডিকেল কলেজ ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটেরও আপনারা নীতিনির্ধারক হতে যাচ্ছেন। তাই সক্ষমতা উন্নয়ন (Capacity Development), সক্ষমতা গঠন (Capacity Building), সেই সক্ষমতা ধরে রাখা এবং নিজেদের দক্ষভাবে পরিচালিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক্ষেত্রে একটিই মানদণ্ড হওয়া উচিত—Knowledge and Skill। এর সঙ্গে অবশ্যই Managerial Capability থাকতে হবে। এর বাইরে অন্য কোনো বিবেচনাকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলেই একদিন এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের Cambridge School of Medicine, Oxford School of Medicine কিংবা Harvard School of Medicine-এর মতো মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তখন মানুষ বলবে—বাংলাদেশের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ই দেশের সেরা School of Medicine। ইনশাআল্লাহ।
সেটি যদি আমরা করতে পারি, তাহলে আমার মনে হয় কুদ্দুস ভাই যে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার জন্য কাজ করেছেন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, সততার জন্য লড়াই করেছেন—তাঁর প্রতি সেটিই হবে যথার্থ সম্মান।
তাহলেই আমরা সবাই ভালো থাকব, দেশ ভালো থাকবে। আর দেশ ভালো থাকলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান—“করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।” এখন তিনি আরও একটি কথা যোগ করেছেন—“সবার জন্য বাংলাদেশ।”
অর্থাৎ আগামী প্রজন্ম যেন আমাদের নিয়ে কটু কথা না বলে; বরং গর্ব করে বলতে পারে—তাঁরা আমাদের জন্য কিছু করে গেছেন।
তিনি বলেন, সেই লক্ষ্যেই আসুন, আমরা সবাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করি।