
টাইমস নিউজ ডেস্ক:-
ইউক্রেনের সর্বাধিনায়ক ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মিখাইলো দ্রাপাতিকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে অপসারণের প্রতিবাদে রাজধানী কিয়েভে ছয় দিন ধরে চলা বিক্ষোভের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফেদোরভের সঙ্গে এর আগে সিরস্কির মতবিরোধ হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ‘পুনর্গঠন’ করার জন্যই মঙ্গলবার দ্রাপাতিকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের শক্তিশালী সম্মুখসারির অবস্থানের জন্য আমি ওলেক্সান্দর সিরস্কি এবং আমাদের প্রত্যেক যোদ্ধার কাছে কৃতজ্ঞ। একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করার জন্য আমি মিখাইলো দ্রাপাতির কাছেও কৃতজ্ঞ।’
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের সবার আকাঙ্ক্ষা একটাই। আর তা হলো শত্রুর ওপর বিজয় অর্জন এবং রণাঙ্গনে ও রাশিয়ার ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করা, যা রাশিয়াকে শান্তির পথে আসতে বাধ্য করবে।’ তিনি সামরিক নেতৃত্বের মধ্যকার মতবিরোধ নিরসন এবং সৈন্য সমাবেশ ও রণাঙ্গন ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলোর সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ফেদোরভকে অনেকেই ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখতেন। গত সপ্তাহে তাঁকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এর ফলে ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়ার আগে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রকাশ্যে সিরস্কির সমালোচনা করে বলেছিলেন, এই জেনারেল তাঁর সংস্কার প্রচেষ্টায় বাধা দিচ্ছেন। রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলায় সফল হতে হলে তাঁকে প্রতিস্থাপন করতে হবে।
ফেদোরভ ড্রোন উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছিলেন। কিন্তু তিনি তুলনামূলকভাবে রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত সিরস্কির বিরুদ্ধে তাঁর কাজে অন্তর্ঘাতের অভিযোগ এনেছিলেন।
মঙ্গলবার জেলেনস্কি ফেদোরভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁকে সরকারে একটি সম্মানজনক পদের প্রস্তাব দেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ফেদোরভ সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
নতুন সামরিক প্রধান দ্রাপাতি একজন শৃঙ্খলাপরায়ণ ও অত্যন্ত কার্যকর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০১৪ সালে পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকার জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এরপর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে।
২০২৪ সালে দ্রাপাতির নেতৃত্বাধীন বাহিনী জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহের দিকে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয় এবং খেরসন অঞ্চলের কিছু অংশ থেকে রুশ সেনাদের পিছু হটতে বাধ্য করে। এরপর তিনি খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার নতুন আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগঠিত করেন।
সেই বছরের শেষের দিকে জেলেনস্কি তাঁকে স্থলবাহিনীর কমান্ডার নিযুক্ত করেন। যদিও তিনি ২০২৫ সালে পদত্যাগ করেন। ওই সময় একটি স্থলবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রাশিয়ার হামলায় বেশ কয়েকজন ইউক্রেনীয় সৈন্য নিহত হন।
সূত্র: বিবিসি