
টাইমস নিউজ ডেস্ক:-
পুনরায় সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও উদ্যোক্তা পরিচালক এম. এ. কাশেম। রোববার (৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৭৯৬তম সভায় পরিচালকদের সর্বসম্মতিক্রমে তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত করা হয়।
এম. এ. কাশেম সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা পরিচালক। ব্যবসা, শিক্ষা ও সমাজসেবায় দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত তিনি। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চারবার প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি রোজ কর্নার (প্রাইভেট) লিমিটেডের চেয়ারম্যান।
তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর সাবেক সভাপতি। সংগঠনটির সালিসি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের (এপিইউবি) সাবেক চেয়ারম্যান তিনি।
ব্যবসায়িক ও শিল্প খাতে অবদানের জন্য বিভিন্ন সময়ে সম্মাননাও পেয়েছেন এম. এ. কাশেম। রপ্তানিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ সালে তিনি ‘প্রেসিডেন্ট এক্সপোর্ট ট্রফি’ অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে শিল্প খাতে অবদানের জন্য ‘সিআর দাস স্বর্ণপদক’ পান। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে ২০১১ এবং ২০১৬-১৭ সালে সর্বোচ্চ করদাতার স্বীকৃতি পেয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিভিন্ন বাণিজ্য ও সরকারি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ১৯৮৬ সালে ফার ইস্টার্ন দেশগুলোতে এফবিসিসিআইয়ের ২০ সদস্যের বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৫ সালে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ভুক্ত (ইইসি) দেশগুলোতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলেরও নেতৃত্ব দেন। এছাড়া ইউএনডিপির পৃষ্ঠপোষকতায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় পাঁচ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় এম. এ. কাশেম। নিজ এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে তিনি এম. কাশেম ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। ট্রাস্টের উদ্যোগে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ২০ শয্যার ‘তারেক মেমোরিয়াল হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও উপবৃত্তি দেওয়া হয় এই ট্রাস্টের মাধ্যমে।
ছাগলনাইয়ার দারোগারহাটে তিনি ‘কাশেম কমপ্লেক্স’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর আওতায় মাদ্রাসা, মসজিদ, ঈদগাহ, পাবলিক কবরস্থান ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সেখানে বিনামূল্যে আবাসন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে।
সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে এম. এ. কাশেম বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। এছাড়া সাহিক (সোসাইটি ফর অ্যাসিসট্যান্ট টু হিয়ারিং ইমপেয়ার্ড চিলড্রেন) ট্রাস্টের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিভিন্ন সময়ে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব, বারিধারা কসমোপলিটান ক্লাব, গুলশান ক্লাব, রোটারি ক্লাব অব ঢাকা ওয়েস্ট, ন্যাশনাল শুটিং ক্লাব, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং চট্টগ্রাম শিশু হাসপাতালের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।