1. admin@timesnews71.com : অ্যাডমিন :
২৯ বছরেও হয়নি রাস্তা, কাঁদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা | টাইমস নিউজ ৭১
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

২৯ বছরেও হয়নি রাস্তা, কাঁদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

সালেহীন সোয়াদ সাম্মী, মধুখালী (ফরিদপুর):-

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য ৮২০ ফুট কাঁচা রাস্তা। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাঁদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২৯ বছর ধরে রাস্তাটি এ অবস্থায় পড়ে থাকলেও এখনো পাকাকরণ করা হয়নি। বিদ্যালয়ে প্রবেশের একমাত্র এই রাস্তাটি দিয়ে বাধ্য হয়েই শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে কাঁদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর পোশাক ও বই-খাতা ভিজে যায়। কেউ কেউ পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার আশঙ্কায় বিদ্যালয়ে আসাও বন্ধ করে দেয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে রেজিস্টার্ড বিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি এটি জাতীয়করণ করা হয়। ২০১১ সালে বিদ্যালয়ে দুইতলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮৪ জন শিক্ষার্থীকে ছয়জন শিক্ষক পাঠদান করছেন।

বিদ্যালয়ে যাতায়াতের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বিশাল দাস বলে, ‘বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে আসতে অনেক কষ্ট হয়। এ সময় আমাদের অনেক বন্ধু নিয়মিত ক্লাস করতে পারে না।’

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুন জানায়, বৃষ্টি শুরু হলে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে খুবই কষ্ট হয়। কখনো কখনো কাঁদায় পড়ে গিয়ে বই-খাতা ভিজে যায়।

আরেক শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী দাস বলে, ‘বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসে না।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেমন্ত দাস বলেন, বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে আসার পথে শিক্ষার্থীরা বৃষ্টিতে ভিজে যায়। তাদের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হয়। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে এলেও পুরো বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার দাস বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য প্রায় ৮২০ ফুট কাঁচা রাস্তা রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় কাঁদা-পানি জমে যায়। এতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে অনেকবার অবগত করেছি। বর্ষা মৌসুম এলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। কোমলমতি শিশুদের কথা বিবেচনা করে রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

মেগচামী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সনৎ কুমার দাস বলেন, ‘ফুলেশ্বরী পানি উন্নয়ন সমবায় সমিতির উদ্যোগে খালের পাড় দিয়ে ১৯৯৭ সালে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটি এলাকার মানুষের একমাত্র চলাচলের মাধ্যম। বৃষ্টি-কাঁদা যাই হোক, এই রাস্তা ছাড়া চলাচলের আর কোনো মাধ্যম নেই। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরকে অবগত করা হয়েছে।’

মেগচামী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ সাবিদ উদ্দীন শেখ সাব্বির বলেন, ‘রাস্তাটির অবস্থা খুবই করুণ। বর্ষা মৌসুমে শিশুদের স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। কিছুদিন আগেও আমি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বিষয়টি জানিয়েছি। রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণ করা গেলে আমারও ভালো লাগত।’

এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বিথী বলেন, ‘আমি এ উপজেলায় অল্প কয়েকদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি। এখনো বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানলাম। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।’

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ টাইমস নিউজ ৭১
Theme Customized By Times News 71