
টাইমসনিউজ ডেস্ক
হিজবুল্লাহ নেতা হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ার হত্যার প্রতিশোধ না নিলে আমেরিকা ও ইউরোপের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ‘মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রবিবার তেহরানে মন্ত্রিসভার বৈঠকে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর হত্যার নিন্দা জানাতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, পেজেশকিয়ানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের একদিন পর হানিয়ার হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান।
গত শুক্রবার বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নাসরুল্লাহ নিহত হন। শনিবার লেবাননের এই গোষ্ঠী তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।
পেজেশকিয়ান এ ঘটনাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আরও একবার প্রমাণ করে যে ‘অপরাধী শাসনব্যবস্থা কোনো আন্তর্জাতিক নীতিমালা বা কাঠামো মেনে চলে না।’
তিনি বলেন, হামাসের প্রাক্তন নেতার হত্যার জবাবে ইরান যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তার বিনিময়ে ‘যুদ্ধবিরতির’ যে প্রতিশ্রুতি আমেরিকান ও ইউরোপীয় নেতারা দিয়েছিলেন তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ প্রমাণিত হয়েছে।
‘এই ধরনের অপরাধীদের আরও বেশি সময় দেওয়ার অর্থ হচ্ছে তাদের আরও বেশি নৃশংসতা চালাতে উৎসাহিত করা,’ তিনি বলেন।
নাসরুল্লাহর হত্যার কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগদানের জন্য নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, লেবাননের ‘স্বাধীনতা সংগ্রামীদের একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।’
‘আমি এখনও বিশ্বাস করি যে, লেবাননের যোদ্ধা ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই লড়াইয়ে একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, যাতে এই নিষ্ঠুর শাসনব্যবস্থা একের পর এক প্রতিরোধকারী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে নির্দোষ নারী ও শিশুদের রক্তপাত ঘটাতে না পারে,’ ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন।
এ অঞ্চলে ইসরায়েলের চালানো ‘নৃশংসতার মুখোমুখি’ হতে আরব ও ইসলামী দেশগুলোর ‘ভারী দায়িত্ব’ রয়েছে বলেও তিনি জোর দেন।
‘এই শাসনব্যবস্থার অপরাধের ব্যাপারে ইসলামী দেশগুলো নিরব থাকতে পারে না, কারণ আজ বিশ্বের সকল মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, নিরাপত্তাহীনতা এবং হত্যাকাণ্ডের আসল অপরাধী এবং কারণ কারা,’ তিনি মন্তব্য করেন।
ইসরায়েলের ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিষয়ে মোকাবেলায় পশ্চিমা গণমাধ্যমের ‘দ্বিমুখী নীতির’ তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ‘অনুত্তরিত থাকবে না’, এর মধ্যে হামলার সময় নাসরুল্লাহর সাথে থাকা ইরানি সেনাবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার আব্বাস নিলফোরুশানকে হত্যার ঘটনাও রয়েছে।
‘এই বিশ্বাসঘাতক অপরাধীদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া প্রয়োজন। ইতিহাস প্রমাণ করে যে, নেতাদের হত্যা করে মুক্তি ও জাগরণ আন্দোলনকে ধ্বংস করা যাবে না,’ তিনি বলেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক বোমা হামলার লেবানিজ ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা প্রদান ও ত্রাণ সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ত্রাণ সংস্থাগুলোর ‘পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির’ বিষয়টিও নিশ্চিত করেন।