
টাইমসনিউজ ডেস্ক:
পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, গাজীপুরের গাছা খাল এবং লবণদহ নদী পুনরুদ্ধার, দখল ও দূষণমুক্তকরণের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। তিনি বলেন, এ দুটি প্রকল্প আমরা ইতিমধ্যেই অনুমোদন করে দিয়েছি এবং এ বর্ষার পরপরই গাছা খাল এবং লবণদহ নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণসহ পুনরুদ্ধারের কাজ পুরোদমে শুরু করা হবে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে লবণদহ নদী দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেয়ার জন্য তিনি গাজীপুরের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রকল্প শুরুর আগেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে লবণদহ নদীর সীমানা চিহ্নিত করার জন্যও তিনি জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা প্রদান করেন।
উপদেষ্টা আজ গাজীপুরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নদী ও জলাভূমি সিম্পোজিয়াম ২০২৫’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটাকে সফল করতে হলে কেবল খালে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনলে হবে না খালটাকে দুর্গন্ধমুক্তও করতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, গাছা খাল যারা এখন দূষণ করছেন তাদেরও চূড়ান্ত তালিকা হয়ে গেছে। এখন থেকে যারা দূষণ করছেন তাদের সাথে প্রথমে আমরা আলোচনায় বসব, তারপরে তাদেরকে আমরা সতর্ক করবো এবং এরপরে যদি তারা আমাদের কথা না শুনে, তারা যদি মনে করেন খালটা তাদের প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ফেলার জায়গা সে ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে চরম কঠিন পদক্ষেপই গ্রহণ করতে হবে বলে উপদেষ্টা জানান। পরিবেশ অধিদপ্তরকে গাছা খাল যারা দূষণ করছে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত ও মৌখিক সতর্ক করার নির্দেশ দেন উপদেষ্টা। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ঈদের আগেই এসে গাছা খাল দূষণকারীদের সাথে বসবে বলে তিনি তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা আরো বলেন, গাজীপুরের উল্লেখযোগ্য পুকুরগুলো পুনরুদ্ধার করবার জন্য জেলা প্রশাসককে একটা প্রকল্প জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এতে ১৮ টি পুকুরের একটা তালিকা আমরা পেয়েছি। তিনি বলেন, এতে যেন জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয় সেটা জেলা প্রশাসক দেখবেন। যেগুলো খনন করলে বেশি মানুষের উপকার হবে সেগুলোই আমরা খনন করব, পুনরুদ্ধার করব। পুকুর সংস্কার মানে পুকুরের পাশে প্রাকৃতিকভাবে সীমানা চিহ্নিত করে একটা রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা। এ প্রকল্পটা অনুমোদন দেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করব বলে উপদেষ্টা জানান।
আইনসঙ্গতভাবে এবং বৈষম্যহীনভাবেই সরকারের জায়গা থেকে সেটা বনভূমি হোক, নদী হোক আর খাল হোক যেখানেই অবৈধ স্থাপনা থাকবে সেটা উচ্ছেদ করা হবে পানি সম্পদ উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।