
সজীব মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদপুরের মধুখালীতে দুইযুগ আগে প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘর পড়ে যাওয়ায় পাঠদান চলছে ক্লাবের বারেন্দায়।
৩ জুলাই বুধবার সরেজমিনে এ প্রতিনিধির পরিদর্শনে ও তথ্যানুসাধানের জানাযায় উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামে ২০০২খ্রিঃ অনগ্রসর এলাকার শিক্ষার আলো বিস্তারের লক্ষ্যে মোঃ মোস্তফা কামালের উদ্যোগে নিজস্ব জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘ প্রায় ২যুগ স্বনামের সহিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। পাঠ দান ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা না থাকলেও ৪চালা একটি টিনের ঘরে পাঠদান কর্মসূচী চলে আসছিল। এর মাঝে জীর্ণদশা হলে একবার টিনের ঘরটি সংস্কার করা হয়েছে ব্যক্তিগত অর্থায়নে। সদ্য রেমালের আঘাতে ঘরটি পরে পরে যায়। ঘরের মধ্যে পাঠদানত দুরের কথা প্রবেশই করার মত অবস্থা নাই। রেমালের আঘাতে ঘর পড়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়ের অফিসের কোন অস্তিত নাই । বিদ্যালয়ের কাগজপত্র শিক্ষকের বাড়ীতে রাখা হয়েছে। পাঠ চলছে গাছতলা খোলা আকাশের নীচে। বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদের বারেন্দায় পাঠদান করে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের বসরার কোন ব্যবস্থা নাই। শিক্ষার্থীদের স্থান সংকুলান হয় না । মাঝে মাঝে ক্লাবের সদস্যদের চোখ রাঙানী শিক্ষক শিক্ষার্থীদের হজম করতে হয়। এ বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক রুখসান পারভীন বলেন ২০০৭ সালে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে বিনা বেতনে কাজ করে আসছি। ২০১৩ সালে জাতীয় করনে বাদ পড়ে এ বিদ্যালয়টি । বর্তমানে ৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন এবং শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী আছে। পাঠ্যক্রম চলছে প্রাথমিকের সরকারী নিয়মানুসারে। একটি টিনের ৪ চালা ঘর থাকলেও বর্তমানে সেটা ঝড়ে পড়ে যায় । খোলা আকাশের গাছের নীচে এবং পাশের ক্লাবের বারেন্দায় পাঠদান চলছে। সরকারের কাছে আকুল আবেদন দ্রুত ঘরটি মেরামত করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুযোগ করে দিবেন।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল বলেন চেষ্টা করছি বিদ্যালয়টি দাঁড় করার জন্য। চেষ্টা অভ্যাহত আছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান সরকারের নির্দশনা আছে যেখানে শিক্ষা আছে সেখানেই বই বিতরণের । আমরা সে ভাবেই চাহিদা মত বিদ্যালয়টিতে বই দিয়ে থাকি এর বাইরে কিছুই করার নাই। যেহেতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধনকৃত নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামনুন আহমেদ অনিক জানান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধনকৃত নয় সে হেতু বিদ্যালয়ের ঘরটি ক্ষতিগ্রস্থ হলেও সরকারী পর্যায়ে কতটুকু সাহায়্য সহযোগিতা করা যায় বিষয়টি দেখা যাবে। উপজেলা শিক্ষা কমিটর সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ মুরাদুজ্জামান বলেন যেহেতু আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষা কমিটির সভাপতি সে হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির খোজখবর নিয়ে যা করার দরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো ।