1. admin@timesnews71.com : অ্যাডমিন :
উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে ইউজিসি | টাইমস নিউজ ৭১
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও ইসিকে জামায়াতের চিঠি উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে ইউজিসি বাজেটের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবানের ওপর: অর্থ মন্ত্রী ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬ হাজার ১৬৫ জন পেঁয়াজ আমদানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে : কৃষিমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে থাই উদ্যোক্তাদের প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রীর আহ্বান পুলিশের আরও ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন, সংবিধানে সেই সুযোগ আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রামে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু ২৭ জুলাই

উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে ইউজিসি

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

টাইমস নিউজ ডেস্ক:-

দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষ অর্জনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬–২০৩০)’ চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মতবিনিময় করেন।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষাকে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চশিক্ষা রূপান্তর বিষয়ক জাতীয় কর্মশালার সুপারিশ, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনার সমন্বয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এ জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি জানান, কর্মপরিকল্পনায় পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—স্নাতকদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধি ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাত সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি; ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার; শিক্ষক উন্নয়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি; গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিকীকরণ; এবং সুশাসন, মাননিশ্চিতকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই), ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), ডিজিটাল প্রশাসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গবেষণা প্রকাশনা ও পেটেন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করা, আন্তর্জাতিক গবেষণা ও একাডেমিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ, সমন্বিত জাতীয় উচ্চশিক্ষা তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কর্মপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্তরণের অংশ হিসেবে দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে। এ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের রূপান্তরের রূপরেখা ইউজিসির কাছ থেকেই আসা উচিত, কারণ উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চশিক্ষাকে কাঙ্ক্ষিত মানে উন্নীত করতে ইউজিসির নেতৃত্ব আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল উচ্চশিক্ষা সংস্কার উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দিকগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে চীন, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি নয়, বরং তাদের মেধার উৎকর্ষ নিশ্চিত করা। বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার গন্তব্যে পরিণত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি, একাডেমিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিকীকরণে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যা একটি সম্ভাবনাময় সম্পদ। পরিকল্পিত উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ জনসম্পদকে জাতীয় উন্নয়নের কার্যকর শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
আলোচনা সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এবং ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ টাইমস নিউজ ৭১
Theme Customized By Times News 71