1. admin@timesnews71.com : অ্যাডমিন :
এক্সট্রা ক্লাস লাগলে বলো’; ‘শাড়ি পরতে পারো? কত সুন্দর লাগত’, শিক্ষার্থীকে ঢাবি শিক্ষক | টাইমস নিউজ ৭১
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মধুখালীর ১১ বিদ্যালয়ের ‘সততা স্টোর’ পরিদর্শনে দুদক, সততা চর্চায় গুরুত্ব স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অংশ নিতে পারবেন না: ইসি সচিব শিক্ষকদের বদলির তদবিরের ভিড়ে অফিসে ঢুকতে পারি না : শিক্ষামন্ত্রী উন্নত চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী পুলিশে বড় রদবদল, ৪ ডিআইজিসহ ১৪ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আটক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌ-প্রধানের সাক্ষাৎ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান খানের পদত্যাগ মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সাথে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ এবার সেই মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

এক্সট্রা ক্লাস লাগলে বলো’; ‘শাড়ি পরতে পারো? কত সুন্দর লাগত’, শিক্ষার্থীকে ঢাবি শিক্ষক

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৪

এক্সট্রা ক্লাস লাগলে বলো’; ‘শাড়ি পরতে পারো? কেউ পরিয়ে দিয়েছে নাকি নিজেই পরেছো? কতক্ষণ লেগেছে পরতে? কুচি দিয়েও পরতে পারো?’; ‘শাড়ি পরে আসো নাই কেন? কত সুন্দর লাগত!’; ‘আমাকে ভালোবাসো?’; ‘তোমার হাসি আমার ভাল লাগে’; ‘তোমার প্রোফাইল পিকচারটা সুন্দর’; ‘তোমার ছেলে বন্ধু আছে নাকি?’ এই কথাগুলো কোনো বন্ধু বা বয়ফ্রেন্ড তার বান্ধবী বা গার্লফ্রেন্ডকে বলছে না। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ তার নারী শিক্ষার্থীদেরকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন সময়ে এসব কথা বলেছেন।

 

শুধু তাই নয়, ক্লাসে পর্দা করা নারী শিক্ষার্থীদের মাস্ক বা নিকাব খুলে চেহারা দেখাতে বাধ্য করা, শাড়ি পরা শিক্ষার্থীদের দিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা, সামনের সারিতে এনে বসানো ও ব্যক্তিগত তথ্য জিজ্ঞেস করা, নারী শিক্ষার্থীদের কল ও বার্তা পাঠিয়ে বিরক্ত করা, দেখা করতে চাওয়া, পরীক্ষা শেষে খাতা নেওয়ার বাহানায় হাত ধরার চেষ্টা করা, ক্লাসে দলীয় স্লোগান দেওয়ানো, নম্বর কম দেওয়ার হুমকি প্রদান এবং ছেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সকল অভিযোগ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ইদানীং অনলাইন ও অফলাইনে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। শিক্ষার্থীদের অনেকেই তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন।

 

গত ১৮ আগস্ট অধ্যাপক আজাদের বিরুদ্ধে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকদের কাছে নিজেদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে ধরে মৌখিক অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যাপক আজাদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে মিছিল নিয়ে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক শিক্ষক কোয়ার্টারে তার বাসার সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে, আজ (রবিবার) বিভাগীয় চেয়ারম্যান বরাবর শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বিভাগটির অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী অধ্যাপক আজাদের বিভিন্ন অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কালবেলার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।

 

ইমতিয়াজ আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থী অভিযোগ জানিয়ে বলেন, আজাদ স্যার ক্লাসে পর্দা করা মেয়েদের মাস্ক বা নিকাব খুলে চেহারা দেখাতে বাধ্য করেন। একজন মেয়েকে পরপর দুইদিন মাস্ক খুলে চেহারা দেখাতে বাধ্য করেছেন। কোন মেয়েকে মনে ধরলে তাকে ডেকে সামনে এসে বসার জন্য বলেন। লোলুপ দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এক মেয়েকে এক্সাম হলে পেলেই পাশের বারান্দায় যেয়ে কুনজরে তাকিয়ে থাকতেন। পরীক্ষার সময় এক মেয়ের ইনবক্সে মেসেজ দিয়ে বলেছিলেন, ‘এক্সট্রা ক্লাস লাগলে বলো।’ অনেক মেয়েকে ফোন কলে বা মেসেঞ্জারে কল দিয়ে বিরক্ত করতেন, কল দিয়ে সরাসরি দেখাও করতে বলতেন। আওয়ামী লীগের আর ওনার চাটুকারিতা করলে পরীক্ষায় নম্বর বাড়িয়ে দিতেন।

 

আরেক ছেলে শিক্ষার্থী বলেন, আজাদ স্যার ডিপার্টমেন্টে আমলাতান্ত্রিক মনোভাব রাখেন এবং তার মনমতো সবকিছু করেন। তিনি আমাদের ইচ্ছামত অপমান করেন এবং আমাদের নম্বর কম দেওয়ার ভয় দেখান। মেয়েদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দয়ালু মনোভাব দেখালেও ছেলেদের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ বিপরীত। তার কর্মকাণ্ডে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের সবগুলো ব্যাচ অতিষ্ঠ। তিনি মেয়েদেরকে বলতেন, ‘শাড়ি পরে আসো নাই কেন? শাড়ি পরলে কত সুন্দর লাগত’, ‘তোমার প্রোফাইল পিকচারটা সুন্দর’। পরীক্ষার হলে তিনি কোনো ছেলেকে ওয়াশরুমে যেতে দেননা, কিন্তু মেয়েদেরকে ঠিকই যেতে দেন।

 

বিভাগ সূত্র জানায়, এর আগে ২০০৬ সালে ড. আবুল কালাম আজাদকে নারী ঘটিত বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে তিনি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে যোগদান করেন।

 

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদকে গতকাল ও আজ মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, এসকল অভিযোগের বিষয়ে সম্প্রতি আমাদের বিভাগে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে। যখন তারা এগুলো জানায় তখন কয়েকজন শিক্ষক ও আমি উপস্থিত ছিলাম। আমরা তাদেরকে বলেছি, তোমরা লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তা একাডেমিক কমিটিতে উত্থাপন করতে পারবো। তখন আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট সকলের মতামতের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে যাওয়া হবে। এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে। আমাদের দায়িত্ব হল, বিভাগের সকল শিক্ষককে নিয়ে বিষয়টি ভালভাবে দেখে, বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ টাইমস নিউজ ৭১
Theme Customized By Times News 71