1. admin@timesnews71.com : অ্যাডমিন :
ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্যারোলে মুক্তি মেলেনি, ছেলের কাছে গেলেন মৃত বাবা! | টাইমস নিউজ ৭১
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মধুখালীর ১১ বিদ্যালয়ের ‘সততা স্টোর’ পরিদর্শনে দুদক, সততা চর্চায় গুরুত্ব স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অংশ নিতে পারবেন না: ইসি সচিব শিক্ষকদের বদলির তদবিরের ভিড়ে অফিসে ঢুকতে পারি না : শিক্ষামন্ত্রী উন্নত চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী পুলিশে বড় রদবদল, ৪ ডিআইজিসহ ১৪ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আটক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌ-প্রধানের সাক্ষাৎ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান খানের পদত্যাগ মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সাথে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ এবার সেই মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্যারোলে মুক্তি মেলেনি, ছেলের কাছে গেলেন মৃত বাবা!

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:-

মানবিকতার এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হলো কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার। বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোল না পেয়ে কারাবন্দি ছেলের কাছে শেষবারের মতো মরদেহ নিয়ে যেতে হলো স্বজনদের। কারাগারের গেটেই বাবার নিথর দেহ দেখে শোকে লুটিয়ে পড়েন বন্দি ছেলে। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে চোখ ভিজে যায় উপস্থিত সবার।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের সামনে এমন আবেগঘন ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫) বর্তমানে একটি রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তার বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

পরিবারের পক্ষ থেকে মিলন মিয়াকে বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (জেলা প্রশাসক) কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু সেই আবেদন নামঞ্জুর করে কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দেন, বন্দিকে দেখানোর জন্য মরদেহ কারাগারে নিয়ে যেতে হবে।

নিরুপায় স্বজনরা ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে জেলা কারাগারে আসেন। কারাগারের গেটে মরদেহ রাখা হলে মিলন মিয়াকে সেখানে আনা হয়। বাবার নিথর দেহ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বারবার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

মিলন মিয়ার চাচা মতিউর রহমান বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি প্যারোলে মুক্তির জন্য, কিন্তু সফল হইনি। শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। জীবনে এমন নিষ্ঠুর দৃশ্য আর দেখিনি।

চাচাতো ভাই সালাম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দাফন-কাফনের সময় আমাদের থাকার কথা ছিল পরিবারের পাশে। কিন্তু আমাদের দৌড়াতে হলো আদালত আর কারাগারে। এটা আমাদের জন্য মানসিক নির্যাতনের মতো।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মোমেন ভূইয়া তুহিন দাবি করেন, মিলন মিয়া কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় হলেও তাকে প্যারোল দেওয়া উচিত ছিল।

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রীতেশ চাকমা বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। তার পাঠানো পত্র অনুসারে কারাগারের গেটে মরদেহ দেখানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ টাইমস নিউজ ৭১
Theme Customized By Times News 71