1. admin@timesnews71.com : অ্যাডমিন :
বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে দিতে চাই: বিদ্যুৎমন্ত্রী | টাইমস নিউজ ৭১
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার মাঠ প্রশাসনে নারী নেতৃত্বে মাইলফলক: ২০ জেলায় ডিসি, ১৯১ উপজেলায় ইউএনও তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও ইসিকে জামায়াতের চিঠি উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে ইউজিসি বাজেটের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবানের ওপর: অর্থ মন্ত্রী ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬ হাজার ১৬৫ জন পেঁয়াজ আমদানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে : কৃষিমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে থাই উদ্যোক্তাদের প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রীর আহ্বান পুলিশের আরও ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর

বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে দিতে চাই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

টাইমস নিউজ ডেস্ক:-

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিদ্যুতের বিতরণ সিস্টেম বেসরকারি খাতে দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন, আমি সবাইকে প্রস্তুত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে গেলাম।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে বনিক বার্তা আয়োজিত ” বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর” শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এমন মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বনিক বার্তার এডিটর দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রাইভেট খাতে গেলে স্বচ্ছতা বেশি থাকে, রাষ্ট্রের দায়ও কমে যাবে। আপনারা প্রস্তুত হন, বিতরণ সিস্টেমে বিনিয়োগ করার জন্য। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা অবশ্যই প্রাইভেটে যাওয়া উচিৎ। পাশের দেশে দেখেন বিভিন্ন সিটি বিভিন্ন কোম্পানি পরিচালনা করছে।বেসরকারি খাতে দিলে, সেবার মান বাড়বে। শুধু উৎপাদন থাকবে সরকারের হাতে।

তিনি বলেন, বিগত সরকার সব খাত ধ্বংস করে দিয়ে গেছে।আমি যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি, তার কোন প্লানিং দেখতে পাইনি। কোন কূপ খনন করেনি, পুরোপুরি আমদানির দিকে গেছে। মাত্র দুটো এফএসআরইউ স্থাপন করছে, তার একটিতে গতকাল আগুন লেগেছে, এলএনজি বোঝাই জাহাজ দুরে ছিল না হলে বিশাল ঝামেলা হতো। আজ এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, গ্যাসের চাপ কমে গেছে। ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ গ্যাস পাচ্ছে না, সিএনজিও পাচ্ছে না। অনেক জায়গায় মানুষ সড়ক অবরোধ করছে। এটি প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানির অবকাঠামোও আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে কোনো একটি স্থাপনায় সমস্যা দেখা দিলে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি না হয়।

খুলনাতে গ্যাস ভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট করেছে। সেখানে গ্যাসের কোন ব্যবস্থা নেই। ভোলা-বরিশাল খুলনা পাইপলাইন কবে হবে সেই ভরসায়। যে পাইপলাইন নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে মাত্র। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এখন মিউজিয়াম হয়ে গেছে। কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র যদি কয়লা খনি এলাকায় হতো তাহলে কথা ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে জ্বালানি প্রয়োজন, সেই গ্যাস অনুসন্ধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এনার্জি সিকিউরিটি বিষয়টি খুবই জটিল। ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বেশি জটিল করেছে। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় গ্যাস না পাওয়ায়, বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। অর্থসচিব বলেছেন বেশি দাম দিয়ে কিনলে বাজেট বরাদ্দ শেষ হয়ে যাবে। ৬৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া বিল রয়েছে, চলতি বিলের সঙ্গে পরিশোধ করতে হচ্ছে। আপনারা ভয় পাবেন না, আমরা সৎভাবে হ্যান্ডেল করার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, আমাদের মতো সাহসী কেউ নেই। আমাদের শিল্পে আয়ের ৩০ শতাংশ ব্যাংকের পেছনে খরচ হয়। তাহলে বুঝেন আমাদের ব্যবসায়ীরা কিভাবে টিকে আছে। বিগত সরকার ব্যাংক খালি করে রেখে গেছে। অনেকে ব্যাংক টাকা রেখে নিঃস্ব হয়ে গেছে, সংসার চলছে না। লুটপাট হয়ে গেছে সেগুলো ফেরৎ দিতে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটাকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র বানাতে চাচ্ছেন। যে কারনে হেলথ কার্ড, ফ্যামিলি, প্রবাসীকার্ডসহ বিভিন্ন কার্ড দেওয়া হচ্ছে। আমরা ১ হাজার ডায়ালাইসিস মেশিন আনবো, কম খরচে সেবা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি পলিসি ঘোষণা করেছি, সিপিডি প্রশংসা করেছে। মিনিমাম ট্যাক্সে গেছি। ক্লাস্টার বেসিসে যাবো, নির্দিষ্ট এলাকায় সোলার স্থাপনের বিতরণ কোম্পানির ডিমান্ড কমিয়ে দিবো। সোলার থেকে বিদ্যুৎ পাবে গ্রাহকরা। হাসিনার দায়মুক্তি আইন বাতিল করেছি, দরপত্র আহ্বানের প্রসেস চলছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে, চীনা কোম্পানি সোলারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সবার সহযোগিতা পেলে ১০ হাজার মেগাওয়াট করতে পারবো বলে মনে করি।

তিনি বলেন, যারা ছাদে সৌর প্যানেল বসাবে, তাদের ট্যাক্স রিবেট দিবো, হোল্ডিং ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়া হবে, যারা করবে না তাদের ট্যাক্স বেশি হবে।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা প্রায় সকলেই দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া শিল্পায়ন সম্ভব না। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যমান শিল্প ধুকছে, অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারছে না। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে দেশী-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী,ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম রিজওয়ান খান, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (আইডিকল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর মোরসেদ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অন্তর্বর্তীকালীন) মো. এনামুল হক, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ প্রমুখ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ টাইমস নিউজ ৭১
Theme Customized By Times News 71