
ডা ফেরদৌস।
“তোমরা এমন কেনো?” বিমানবালার প্রশ্ন।
উত্তর আমার জানা নেই।বলছিলাম আমিরাত এয়ারলাইন্সে সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের সময় অভিজ্ঞতা।
সম্পুর্ন বিমানভর্তি প্যাসেঞ্জার তাই মাথার উপরে লাগেজ রাখার জায়গা নেই।খেয়াল করলাম যাদের ছোট ছোট হাত ব্যাগ আছে তারাও মাথার উপরের পুরো একটি কেবিন দখল করে বসে আছে।সেখানে আরো দুইটি তিনটি বা চারটি ছোট ব্যাগ পাশাপাশি রাখা যায়। কিন্তু তারা সেখানে কারো কোনকিছু রাখতে জায়গা দেবে না।এমন একটা ভাব যে নিজের লাগেজের জন্য আলাদা কেবিন লাগবেই। অনেকেই বড় ব্যাগ হাতের কাছে রেখেছে, জায়গা পাচ্ছে না।সাহায্যকারী বিমানবালা বহু চেষ্টা করেও তাদেরকে রাজি করাতে পারছে না যে ওই কেবিনগুলোতে ইচ্ছে করলেই ছোট ছোট ব্যাগগুলো একসাথে জায়গা করে দেয়া যায়।
শেষমেষ ইংরেজি জানা বিমানবালা আমাকে জিজ্ঞেস করল “তোমরা মানুষগুলো এমন কেন? একটু শেয়ার করলে অসুবিধা কোথায়?” আমি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম।মেনে নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আমি নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করলাম “ছোটবেলা থেকে আমরা বিদ্যালয়ে গিয়েছি, কি শিখেছি? শুধু কিভাবে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় হওয়া যায়, মুখস্ত বিদ্যার পারদর্শী হওয়া যায়? কিন্তু অন্যকে সহযোগিতা করা, অন্যের সাথে কিছু শেয়ার করা এসব আমরা এতোটুকু শিখতে পারিনি।সামান্য একটু কাজ,বিমানে লাগেজ রাখার জায়গা শেয়ার করে ব্যাগ রাখবো, সেই সামান্য জায়গাটুকু আমরা শেয়ার করতে চাই না।
কবে মানুষ হবো আমরা সেটিই প্রশ্ন।আমরা সবাই ভাল ছাত্র হব কিন্তু মানুষ হবো না।