
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিহত সোহাগের মেয়ের বরাত দিয়ে বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলো দাবি করেছে, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিনজনকে মামলার এজাহার থেকে বাদ দিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানো হয়েছে।
ঘটনার পর ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও কেন প্রধান অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়নি—এই প্রশ্ন তুলেছে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। শনিবার নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, যাদের হাতে প্রাণঘাতী অস্ত্রের আঘাত করতে দেখা গেছে, তাদেরকেই আসামি না করাটা ‘আশ্চর্যজনক’ এবং এর পেছনের কারণ বোধগম্য নয়।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীর। তবে ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে দলগুলো। শুক্রবার রাতেই অভিযুক্ত পাঁচজনকে নিজ নিজ সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। কেবল বহিষ্কারই নয়, সংবাদ সম্মেলনে মুন্না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করেন, বহিষ্কৃতদের যেন দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়।
বুধবারের হত্যাকাণ্ড শুক্রবারে গণমাধ্যমে আসার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা, সে প্রশ্নও তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে। মুন্না বলেন, ‘এই দুই দিনের বিলম্বের পেছনে কারা রয়েছে, তা তদন্ত হওয়া উচিত।’ তিনি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এমন নৃশংস ঘটনা ঘটছে।
দলের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতার কথা উল্লেখ করে যুবদল সভাপতি জানান, গত এক বছরে তারা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় হাজারো নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছেন। তিনি সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের কোনো ধরনের সহায়তা প্রয়োজন হলে, আমরা সব সময় প্রস্তুত আছি।’